গল্প-কবিতা

আবু*জর আল গি*ফারী (রঃ) – ইসলাম গ্র*হনের পূর্বে যিনি ছিলেন দূর্ধর্ষ ডা*কাত

ম*ক্কা যে গিরিপথের মাধ্যমে বাকী পৃথি*বীর সাথে যুক্ত ছিল সেটা ছিল ওয়া*দান ভ্যালী এবং সেখানেই ছিল গিফার গোত্রের বাস। অত্যন্ত দুর্ধর্ষ এই জা*তি মক্কা এবং সিরিয়ার মধ্যে যে সকল বা*নিজ্য বহর চলাচল করত তাদের জিম্মি করে চাঁদবাজী করত । বানি*জ্য কাফেলা তাদের দাবী পূরণে ব্যর্থ হলে তারা মালা*মাল আর ধনসম্পদ লুন্ঠন করত । জুন*দুব ইবন্ জুনাদা নামে এই গোত্রের ভয়ংকর এবং ক্ষি*প্র একজন নেতা ছিল, যাকে মানুষ আবু জর ডাক না*মেই বেশী চিনত।

লোক*টি সমগ্র আরব অঞ্চলে তার সাহস এবং স্থির*চিত্তের জন্য বিখ্যাত ছিল। লোকজন তাকে সেই মানুষ হিসাবে*ও জানত যে মানুষ আরবের সকলে যে ধর্ম*বিশ্বাস নিয়ে জীবন*ধারণ করে সে তাকে মিথ্যা বলে মনে করত।

ওয়া*দান মরুভূমিতে অবস্থানকালে একদিন তাঁর কাছে খবর পৌঁছা*ল যে, মুহাম্মাদ নামের একজন ব্যক্তি মক্কায় নিজেকে আল্লাহর নবী বলে পরিচয় দিচ্ছে। একথা শো*নার পর তার অন্তরে খেলে গেল এক অদ্ভূত আলোড়ন। মন বলল এই লোক*টিই হয়ত সে, যে এ জাতিকে মূর্তিপূজা এবং পাপাচার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসবে। এ জন*কে ও জনকে জিজ্ঞেস করেও তিনি কোন সদুত্তর পেলেন না। অস্থির ম*নের ব্যাকুলতা আরো বরং বেড়ে গেল। মন বলল আর তো বিলম্ব করা যায় না। বিশ্বস্ত কা*উকে দিয়ে নিশ্চিত খবর তার চাই।

তাঁ*র ছোট ভাই এর নাম ছিল আনিস। বড় ভাই এর অস্থির*তা তার চোখেও ধরা পড়েছিল। আনিস নিজেও বড় ভাইকে গভীর*ভাবে ভালোবাসতো। আবু জর এক*দিন তাকে ডেকে নিয়ে বললেন, ”তুমি মক্কা*য় চলে যাও। ওখানে গিয়ে চুপি চুপি সে লোকটিকে খুঁজে বের করবে যে নিজে*কে নবী বলে পরিচয় দিচ্ছে। সাবধান থেকো, ওখানকার মানুষ জানতে পারলে তোমাকে এম*নকি মেরেও ফেলতে পারে। লোকটি কি কি বলে তুমি তা মনোযোগ দি*য়ে শুনো, বিশেষ করে সে কথাগুলো, যা সে আল্লাহর প*ক্ষ থেকে পেয়েছে বলে বলছে। দ্রুত যাও আর ফিরে এ*সে আমাকে সব জানাও।”

আনি*স দেরী না করে বেরিয়ে পড়ল। মক্কার বিপদসংকুল পরি*স্থিতি। নতুন নবীর দাবীদার মুহাম্মাদের সন্ধান করা অত্যন্ত বি*পজ্জনক। সংশয় আর শংকার মধ্যেই আ*নিস একদিন খুঁজে বের করলো মুহা*ম্মাদকে (আল্লাহর করুনা শা*ন্তি তাঁর উপর বর্ষিত হোক)। আনিস তাঁর কথা শুন*লেন, তারপর মক্কা থেকে তিনি দ্রুত ওয়াদা*ন এর পথে রওয়ানা হলেন।

ইতি*মধ্যেই আবু জর অস্থির হয়ে উঠেছেন। মক্কা-ওয়াদান পথে তার উদ্বিগ্ন দৃষ্টি আনিসের আগমন পথের প্রতীক্ষা*য় ছিল। একদিন দেখা গেল আনি*স ফিরে আসছে। ছুটে গেলেন তিনি আনি*সের কাছে। উদ্বিগ্ন আবু জর জিজ্ঞেস করলেন, ”কি দেখলে ওখানে, দেখা হয়ে*ছিলো তাঁর সাথে?” ”হ্যাঁ। এক*জন মানুষ*কে ওখানে সত্যিই আমি পেয়েছি যে নিজেকে আ*ল্লাহর প্রেরিত নবী বলে বলছে। সে কবি নয় এবং সে মা*নুষকে কেবল সত্য ও সৎকাজের দিকে ডাকছে।” ”মানুষ*জন তার সম্বন্ধে কি বলছে?” ”তারা তাকে যা*দুকর, মিথ্যাবাদী আর কবি হিসাবে বলছে।” ”তুমি আমার কৌতুহল মে*টাতে পারলে না। তুমি কি আমার পরিবারের দিকে খেয়াল রাখতে পার*বে যদি আমি নিজেই মক্কা যাই আর সেই নবী বলে দা*বীদার লোক*টির সবকিছু নিজেই দেখে আসি?” ”হ্যাঁ। তবে সাব*ধান, মক্কার লোক*দের ব্যাপারে খুব সতর্ক থাক*বেন।”

আর দেরী না করে আবু জর বে*রিয়ে পড়লেন। তারুণ্যে উদ্দীপ্ত যৌবন তার। জী*বনে কতবার মানুষের সম্পদ লুট করার জন্য ক্ষিপ্র গতিতে ঘো*ড়া ছুটিয়েছেন, আর আজ তিনি চলেছেন এক মহা*সত্যকে গ্রহণ করে নেবার জন্য। প্রখর সূর্য, গভীর রাতের নিকষ কালো অন্ধ*কার সবকিছু পেছনে ফেলে অকুতোভয় মানু*ষটি এগিয়ে চললেন মক্কার দিকে।

মক্কা*য় পৌঁছেই তীক্ষ্মধী আবু জর বুঝতে পারলেন শুধুমাত্র মুহা*ম্মাদের সাথে দেখা করার চেষ্টার কারণে তিনি অ*ত্যন্ত অনিরাপদ ও ঝুঁকির মধ্যে রয়ে*ছেন এবং এজন্য তিনি কঠিন সতর্কতা অ*বলম্বন করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন। আবু*জর লক্ষ্য কর*লেন কুরাইশরা মুহুম্মাদের আ*নুসারীদের নির্মম শাস্তি দিচ্ছে আর কে কে মু*হাম্মাদের কাছে আসছে তা দেখার জন্য চতুর গোয়েন্দা*বাহিনী নামিয়েছে। আবু জর জানতেন যে এ অবস্থা তাকে মোকা*বেলা করতে হতে পারে, তাই তিনিও প্রস্তুত ছিলেন। বুদ্ধি*মান আবু জর এজন্য কোন লো*কের কাছে মুহা*ম্মাদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা থেকে বিরত রই*লেন। পরিস্থিতি উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে প*র্যবেক্ষণ করে তিনি রাতে কাবাঘরের এক কো*ণে শুয়ে পড়তেন। এক*দিন আলী ইবন্ আবী তালীব তাকে দেখে ভা*বলেন তিনি নিশ্চয়ই একজন আগন্তুক। আলী তাঁকে তার বা*ড়ীতে যাবার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। আবু*জর মেহমান হিসাবে চ*ললেন আলীর বাড়ীতে। রাত যাপন করে তি*নি সকালে আবার কাবার কাছে চলে এলেন, তবে আবু জর বা আ*লী কেউ কাউকে কোন প্রশ্ন ক*রলেন না।

মুহাম্মা*দ নামের নবী বলে দাবীদার লোকটির দেখা পাবেন বলে প*রদিন সারাদিন তিনি কাবার কাছে খুঁজে খুঁজে কা*টিয়ে দিলেন। কিন্তু দেখা পেলেন না। রা*তে আবার চলে এলেন কাবার মসজিদে ঘু*মাতে এবং আজও আলী ইবন্ আবী তালিব দেখলেন তাকে। আজ আলী বললেন, “এ*খনওকি সে সময়টা হয়নি যখন মানুষ বা*ড়ীর দিকে যায়, চলুন।”

আবু জর আ*জও আলীর সাথে তার বাড়ীতে গেলেন এবং আজও দু*জনের কেউ কাউকে কিছু জি*জ্ঞেস করলেন না।

এম*নিভাবে তৃতীয় দিন এল। আজও আলীর মেহ*মান হয়েই আবু জর এসেছেন আলীর বাড়ীতে। আজ আলী জি*জ্ঞেস করলেন, “আ*পনি কি আমাকে বলবেন কেন আপনি মক্কায় এসেছেন?” ”আমি আ*পনাকে তখনই বলব যখন আপনি আমার সাথে এই প্রতি*জ্ঞা করবেন যে, আমি যা চাই তার সঠিক সংবাদ আপ*নি আমাকে দেবেন আর কা*উকে তা জানাবেন না।” আলী রা*জী হলেন। আবু জর বললেন, ”আ*মি মক্কা থেকে অনেক দূরের প*থ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছি এ*কজন লোকের খোঁজে, যার নাম মু*হাম্মাদ, যে নি*জেকে নবী বলে পরি*চয় দিচ্ছে। আমি শুধু তার সাথে এক*টু দেখা করে তার কিছু কথা শু*নতে চাই।”

আ*নন্দে আলীর চেহারা উ*দ্ভাসিত হয়ে উঠল। আলী বললেন, ”আ*ল্লাহর শপথ, তিনি সত্যিই নবী।” আলী তাকে রা*সুলুল্লাহ্ (সাঃ) এবং তিনি যে শিক্ষা দি*চ্ছেন তার থেকে কিছু আবু জরকে শো*নালেন। অবশেষে তিনি বললেন, ”কাল স*কালে আমি আপনাকে মুহাম্মাদের (সাঃ) কাছে নি*য়ে যাব। আমি যেখানে যাব আ*পনি দূর থেকে আমাকে অনুসরণ করবেন। আমি যদি আপনার জন্য বি*পজ্জনক কোন কিছু দেখি তাহলে আমি মূত্রত্যাগ করার ভাব করে থেমে যাব। যদি আমি চলতে থাকি আ*পনি আমাকে অনুসরণ করবেন এবং আমি যেখানে প্রবেশ করি আ*পনিও সেখানে প্রবেশ করবেন।”

সে রাতে আ*বু জর এর ঘুম হল না। এতদিন ধরে যে মা*নুষটিকে দেখার জন্য তিনি হন্যে হয়ে ঘুরছেন কাল তাঁরই সাথে দেখা হতে যাচ্ছে। আ*র তিনি যদি আল্লাহর নবীই হয়ে থুকে তাহলে কী সৌভাগ্যময় দিন তার আসতে যাচ্ছে কাল।

পরদিন ক*থামত আবু জর চললেন আলীর সাথে রাসুল মু*হাম্মাদ (সাঃ) এর সাথে দেখা করার জন্য। আ*লীর সাথে দূরত্ব বজায় রেখে তিনি আ*লীর পদচিহ্ন অনুসরণ করতে লাগলেন। কোন বিপদ ছাড়াই এক*সময় তারা পৌঁছে গেলেন কাঙ্খিত গন্তব্যে। কত কথা আবু জর যেন ভেবে রে*খেছিলেন মুহাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করার জন্য, তার কথাগুলো এ*কটু যাচাই করে নেবার জন্য, কিন্তু আ*জ যখন তিনি মুহাম্মাদ নামের এই লোকটির সাম*নে এলেন, তার আগেই আল্লাহ্ ঈমানের আলো আবু জ*রের অন্তরে ঢেলে দিয়েছিলেন। প্রথম দেখাতেই রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) কে তিনি বললেন, ”আপ*নার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষিত হোক হে আ*ল্লাহর রাসুল।” ”আস্সালামু আলাইকা ইয়া রা*সুলাল্লাহ্”।

রাসু*লুল্লাহ্, তাঁর উপর আল্লাহর শান্তি ও করুণা বর্ষিত হোক, আবু জ*রের চেয়েও সুন্দর ভাষায় সে সম্বোধনের জবাব দিলেন, ”তো*মার উপরও আল্লাহর শান্তি, রহমত ও করুণা বর্ষিত হোক।” ”ও*য়ালাইকুম আস্সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্ ওয়া বারাকাতুহু”। আর এ*ভাবেই আবু জর হলেন প্রথম মানুষ যিনি আল্লাহর রাসুলকে সেই ক*থাগুলো দিয়ে সম্বোধন করলেন যা পর*বর্তিতে মুসলিমদের জন্য সম্বোধন রী*তি হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। রাসু*লুল্লাহ্ (সাঃ) তা*কে স্বাগত জান*রালেন এবং ইসলামের দাওয়াত দিলেন। তিনি তাকে কুরআন থেকে কিছু বাণী পড়ে শেনালেন। আবু জর মোটেও দেরী করলেন না, সত্যের আলো তার হৃদয়ে আল্লাহ্ প্রজ্জ্বলিত করে দিয়েছিলেন। আ*ল্লাহ্ ও তার রাসুলকে বিশ্বাস করে সাক্ষ্যের উচ্চারণ তার মুখ থেকে উচ্চা*রিত হলো। আর ভাগ্যবান এই লোকটি এভাবেই প্রথম দিককার মুস*লিমদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হলেন, যাদের সীমা*হীন মর্যাদার কথা স্বয়ং আল্লাহ্ ঘোষনা করেছেন। এর*পরের কথা আমরা আবু জরের মুখ থেকেই শুনব।

“এর*পর থেকে আমি রাসুল, তাঁর উপর আল্লাহর শান্তি ও ক*রুণা বর্ষিত হোক, এর সাথে মক্কায় থাকতে লাগলাম। তি*নি আমাকে ইসলাম এবং কুরআন শি*ক্ষা দিলেন। রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) আ*মাকে বললেন, ”তোমার ইসলাম গ্রহণের কথা তুমি এখানে ম*ক্কার কাউকে জানিও না। আমার ভয় হয়, তা জা*নলে ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে।”

আবু জর তা*রুণ্যদীপ্ত দুঃসাহসিক মানুষ। ইস*লাম গ্রহণের আগেও তিনি কাউকে ক*খনও ভয় পাননি, বরং এ লোকটির সাহস আর পৌ*রুষ সবাইকে অবাক করেছে। আজ ঈমানের তেজ তার অন্তরে। তি*নি কি কাউকে ভয় পেতে পারেন? আবু জর বললেন, ”যার হাতে আ*মার প্রাণ সেই মহান সত্ত্বার শপথ ইয়া রা*সুলাল্লাহ্, আমি ততক্ষন পর্যন্ত মক্কা ত্যাগ ক*রব না যতক্ষন না আমি কাবার প্রঙ্গনে কু*রাইশদের মাঝখানে গিয়ে যে সত্য আল্লাহ্ আ*মাকে দিয়েছেন সে সত্যের ঘোষণা না দেব।”

রাসু*লুল্লাহ্ (সাঃ) নিশ্চুপ রইলেন। আমি কাবার ম*সজিদে গেলাম। কুরাইশরা সে*খানে বসে ছিল এবং নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল। আ*মি তাদের মাঝখানে গিয়ে পৌঁছালাম এবং আমার গলার সর্বোচ্চ আওয়াজে বললাম, ”কু*রাইশগণ, আমি তোমাদের ঘোষণা করছি যে, আল্লাহ্ ছা*ড়া কোন ইলাহ্ নাই এং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।”

আ*মার কথার সাথে সাথে তাদের মধ্যে বিস্ময়ক*র প্রতিক্রিয়া হল। তারা লাফ দিয়ে উঠে পড়ল এবং বলতে লাগল, ”এ*কে এখনই ধর, সে নিজের দীন ত্যাগ করেছে।” তা*রা আমাকে ধরে ফেলল, আমার উপর চ*ড়ে বসল আর আমাকে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে মার*তে লাগলো। তাদে*র সেই বীভৎস মার আমাকে প্রায় মৃত্যুর কাছা*কাছি নিয়ে যাচ্ছিল। ঠি*ক সে সময় আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালি*ব, যিনি রাসুলুল্লাহর চাচা, আমাকে চিনতে পার*লেন।

তিনি আ*মার উপর আচ্ছাদনের মত ঝুঁকে প*ড়লেন এবং আমাকে তাদের মার থেকে রক্ষা করলেন। তার*পর তাদের বললেন, ”তো*মাদের ধ্বংস হোক, এ তো*মরা এ কি করছ? তোমরা কি গি*ফার গোত্রের একজন লোককে মেরে ফেলছ অথচ তো*মাদের ব্যবসা ও বাহন*গুলো গিফার গোত্রের উপর দিয়েই মক্কা থেকে বের হবে।” আ*ব্বাসের এ কথায় তারা আমাকে ছেড়ে দিল।

এ ঘ*টনার পর আমি রাসুলুল্লাহ্, তাঁর উপর আল্লাহর শান্তি ও করুণা বর্ষিত হোক, এর কাছে ফিরে গেলাম। য*খন তিনি আমার ক্ষতবিক্ষত অবস্থা দেখলেন তখন বললেন, ”আমি কি তো*মাকে বলিনি মক্কার লোকদের সামনে ইসলাম গ্র*হণের ঘোষণা না দেবার জন্য।” আমি বল*লাম, ”ইয়া রাসুলাল্লাহ্, এ কাজটি করার জন্য আমি মন থেকে চাইছিলাম এবং তা আমি পূরণ করেছি”। ”তো*মার জাতির কাছে ফিরে যাও, আর তুমি যা দে*খেছ ও যা শুনেছ তা তাদেরকে জানাও। তাদেরকে আল্লা*হর দিকে দাওয়াত দাও। আল্লাহ্ হয়তো তোমার মাধ্যমেই তা*দেরকে কল্যাণের দিকে নিয়ে আসবেন এবং তাদের মাধ্যমে তো*মাকে পুরস্কৃত করবেন। আর যখন তুমি শুনবে যে আমি প্রকাশ্যে চলে এসেছি, ত*খন তুমি আমার কাছে চলে এসো।”

রা*সুলুল্লাহ্ (সাঃ) এর এ আদে*শের পর আমি আমার জাতির কাছে চলে এলাম। আমার পৌঁ*ছানোর খবর পেয়ে আমার ভাই আমার কাছে ছুটে এল। ”আ*পনি কি করলেন সেখানে?”, সে আ*মাকে জিজ্ঞেস করল। আ*মি বললাম যে, আমি মুসলিম হ*য়েছি আর মুহাম্মাদ যে শিক্ষা দি*চ্ছেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছি। ”আ*মি আপনার ধর্ম আর মতের বি*রুদ্ধে নই, আজ থেকে আমিও মু*সলিম আর বিশ্বাসী হিসাবে ঘো*ষনা করলাম।”

দুই ভাই এরপর তা*দের মায়ের কাছে গেল এবং মাকে ইস*লামের দাওয়াত দিল। মা বললেন, ”তো*মাদের দু ভাইয়ের বিশ্বাসের সাথে আমার কোন দ্বিমত নেই। আজ থেকে আ*মিও ইসলামে প্রবেশ করলাম।”

সে*দিন থেকেই এ বিশ্বাসী মুসলিম পরিবারটি গিফার গোত্রের লোক*দের অক্লান্তভাবে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চলল। ফলশ্র“তিতে গি*ফার গোত্রের অধিকাংশ লোক ইসলামের সু*শীতল ছায়ায় আশ্রয় নিল।

আ*বু জর রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) মদিনায় হিজরতের আগ পর্য়ন্ত ওয়াদান মরু*ভূমিতে তাঁর গোত্রে অবস্থান করতে লাগলেন। বদর, উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধের সময় পর্য়ন্ত এ গোত্রটি ওয়াদান মরুভূমিতে অবস্থান ক*রতে লাগল। অবশেষে রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশে আবু জর এরপর মদিনায় চলে এলেন। আ*বু জর রাসুল (সাঃ) এর কাছে অনুমতি চাই*লেন সর্বক্ষন তাঁর একান্ত সান্নিধ্যে থাকার জন্য এবং তাঁর ব্যক্তি*গত কাজে লাগার জন্য। রাসুল (সাঃ) তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং তার সাহচার্য ও কাজকর্মে সব*সময় সন্তুষ্ট ছিলেন। রাসুল (সাঃ) প্রয়ই আবু জরকে অন্য*দের থেকে অগ্রাধিকার দিতেন এবং যখনই তার সাথে দেখা হত তিনি তার দিকে তা*কিয়ে হাসতেন আর তাঁকে বেশ প্রফুল্ল দেখাত।

স*ময় বয়ে চলল এবং একদিন রা*সূলুল্লাহ্ (সাঃ) মৃত্যুবরণ করলেন। আবু জর এর*পর আর মদিনা থাকতে পারলেন না। প্র*তিটি মুহূর্তে রাসুলের (সাঃ) শূন্যতা তাকে ভীষন আবেগ*প্রবন করে তুলত। রাসুলের (সাঃ) যে অ*ভিভাবকত্ব আবু জরকে ছা*য়ার মত আগলে রেখেছিল তার অভাব তাকে প্রতিটি সেকেন্ডে যেন বিদ্ধ করছিল। আবু জ*র মদিনা ত্যাগ করলেন এবং আবু ব*কর এবং উমার এর পুরো খিলাফতকাল তিনি সিরি*য়ার মরুভূমিতে নিভৃতে কাটিয়ে দি*লেন।

উস*মান ইবন্ আফ*ফান (রাঃ) এর খিলাফতকালে আবু জর দামা*স্কাসে অবস্থান করছিলেন। দুনিয়ার প্রতি চিরকাল উদাসীন আবু জর লক্ষ্য কর*লেন মুসলিমরা পরকাল বাদ দিয়ে দুনিয়া এবং বিলা*সিতার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তিনি এতে অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে পড়*লেন। উসমান (রাঃ) তাকে মদিনায় ডেকে পাঠালেন। মদিনায় এসেও আবু জর মু*সলিম সমাজের বিলা*সিতায় মজে যাবার চিত্রই দেখলেন। অবিশ্বাস্য রকম দৃঢ় ও সারা*জীবন একই রকম দুনিয়াবিমুখ এ লোকটি মুসলিমদের এ পরিবর্তন সহজ*ভাবে নিতে পারলেন না। এর ফলে শাসক খিলা*ফতের সাথে তাঁর দ্বন্দ্ব বাড়তে লাগল, এমনকি আবু জরের দৃঢ় দুনিয়া বি*মুখতায় মুসলিম সমাজে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দিল। এহেন অবস্থায় খ*লিফা উসমান তাঁকে ডেকে পাঠালেন।

তিনি তাঁ*কে মদিনার কাছে নির্জন আল-রাবাতাহ্ মরুভূমিতে চলে যাবার জন্য অনু*রোধ করলেন। আবু জর লোকালয় থেকে অনেক দূরে রাবাতাহ্য় চলে গেলেন এবং সে*খানে প্রাণপ্রিয় রাসুল (সাঃ) এর সু*ন্নাহ্ আঁকড়ে ধরে বাস করতে লাগলেন। মরুভূমিতে তাঁর বসবাস*কালীন জীবনে একবার এক লোক তাঁর সাথে দেখা করতে এল। অত্যন্ত আ*শ্চর্য হয়ে সে লক্ষ্য করল আবু জরের বাড়ী প্রায় শূন্য, কো*ন সম্পদ বলতে সেখানে কিছু নেই। লোকটি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ”আপনার সম্প*দ কোথায়?” তিনি উত্তর করলেন, ”পৃথিবীর পরের জী*বনে আমার একটি বাড়ী আছে। *আমার সব উত্তম সম্পদগুলো আমি সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছি।” লোকটি বু*ঝল আবু জর কি বুঝাতে চাচ্ছেন। ”কিন্তু যতদিন আপনি এ দু*নিয়াতে আছেন, ততদিন আপ*নার কিছু সম্পদ থাকা উচিৎ”। আবু জর উত্তর করলেন, ”যিনি এ পৃথিবীর মা*লিক, তিনি তো আমাকে এ সম্পদের কাছে ছে*ড়ে দেবেন না”।

এক*বার সিরিয়ার আমী*র দূত পাঠিয়ে আবু জরকে তাঁর প্রয়োজন মেটানোর জন্য তিন*শো দীনার পাঠিয়ে দিল। আবু জর এই ব*লে আমীরের দেয়া দী*নার ফেরত পাঠালেন যে, ”আমীর কি এ দী*নারগুলো দেবার জন্য আ*মার চেয়ে বেশী চাহিদাসম্পন্ন ভৃত্য আর কা*উকে খুঁজে পেলেন না?”

৩২ হিজরী। আবু জ*রের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়েছে। নি*র্জন মরুভূমিতে তিনি আর তাঁর স্ত্রী একা। রা*বাতাহ্ ছিল এমন একটি যায়গা যেখান দিয়ে সা*ধারণত একে*বারেই লোক চলাচল হত না, তার উপর সে সময়টা এমন ছিল যখন কোন বাণিজ্য কা*ফেলাও যাতায়াত করত না।। মৃত্যুপথযাত্রী আবু জরের অবস্থা দেখে তাঁর স্ত্রী ব্যা*কুল হয়ে পড়লেন কোন সাহা*য্যের আশায়। স্ত্রীর এ অ*বস্থা দেখে আবু জর বললেন, ”চিন্তা ক*রো না, আমি রাসুলাল্লা*হ, তাঁর উপর আল্লাহ*র করুণা বর্ষিত হোক, কে বলতে শুনে*ছি, তোমাদের মধ্যে এখান*কার একজনের মৃত্যু হবে নির্জন মরু*ভূমিতে।

কিন্তু তার মৃত্যুর স*ময় মুমিনদের একটি দল সেখানে উপস্থিত হবে। আমি নিশ্চিত সে ব্য*ক্তিটিই আমি, কারণ সেদিন আমরা যা*রা সেখানে উপস্থিত ছি*লাম তাদের সবাই মৃত্যু*বরণ করেছেন। কেবল আমিই বাকী। তুমি পথে*র দিকে খেয়াল রাখ। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল মিথ্যা বলেন নি।” আবু জর কি*ছুক্ষনের মধ্যেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন। আবু জরে*র স্ত্রী একবা*র স্বামীর কাছে আরেকবার উঁচু টিলার উপর উঠে দূরে খেয়া*ল করতে লাগলেন।

এ অস*ময়ে কে আসবে এই অপ্রচলিত পথে এই চিন্তায় তি*নি অস্থির হয়ে পড়লেন। অবশেষে দূরে দেখা গেল ধুলোর ঝড় তুলে একদল লো*ক এদিকেই আসছে। কাফেলাটি এসে আবু জ*রকে অসহায় অবস্থায় দেখতে পেয়ে জিজ্ঞে*স করল এ লোকটি কে? তাঁর স্ত্রী উত্তর করলেন, আবু জর। লোকেরা বলল, রাসুলুল্লা*হ্ (সাঃ) এর সাহাবী আবু জর? তাঁ*র স্ত্রী বললেন, ”হ্যাঁ।” লোকেরা অত্যন্ত অস্থির হয়ে বলল, ”আমা*দের জান কুরবান হোক”। তারা দ্রুত আবু জরের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন কর*লেন। প্রখ্যাত সাহাবী আবদুল্লাহ্ ই*বন্ মাসউদ (রাঃ) তাঁর জানা*জার সালাত পড়ান।

এমনি*ভাবে আবু জর ইসলাম গ্রহ*ণের পর থেকে তাঁর জীবন অতি*বাহিত করেছেন দুনিয়া*বিমুখ হয়ে কেবলমাত্র আল্লাহ্ আর তাঁ*র রাসুলের আনুগত্যের মা*ধ্যমে। একদিন যে লোক*টি ওয়াদান ভ্যালীর আতঙ্ক আর ত্রাসের নাম ছিল, সে ব্যক্তিটিই একদিন নির্লোভ আর দুনিয়া*বিমুখতার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। ঈমানের মাধ্যমে আ*ল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর অন্তরকে এ*মনই পরিবর্তন করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) কে তিনি এ*তই ভালবাসতেন যে তাঁর মৃত্যুর পর যখনই তিনি রাসুলের (সাঃ) ক*থা মনে করতেন, তখনই অঝোর ধা*রায় কাঁদতেন। অ*ত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যপার এই যে এই দুর্ধর্ষ মানুষটি সম্পর্কেই রা*সুলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ”আ*কাশের নীচে এবং পৃথিবীর উপর আবু জরের চেয়ে বি*শ্বাসী ও সত্যবাদী আর কে*উ নেই”।

Facebook Comments

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button