গল্প-কবিতা

ইমা*ম মাহদী আগমনে*র দলি*ল

সহী*হ হাদীছের বিবর*ণ থেকে অবগত হও*য়া যায় যে, আখে*রী যামানায় ইমাম মাহদী*র আত্মপ্রকাশ কিয়ামতে*র সর্বপ্রথম বড় আলামত। তি*নি আগমণ করে এই উম্মাতে*র নের্তৃত্বে*র দায়িত্বভার গ্রহণ করবে*ন। ইসলাম ধর্মকে সংস্কার কর*বেন এবং ইসলামী শরীয়তের মা*ধ্যমে বিচার-ফয়সালা করবে*ন। পৃথিবী হতে জুলুম-নির্যাত*ন দূর করে ন্যায়-ইনসা*ফ দ্বারা তা ভরে দিবেন। উম্ম*তে মুহাম্মাদী তাঁর আমলে বিরাট কল্যাণে*র ভিতর থাকবে।

ইমা*ম ইবনে কাছীর (রঃ) বলেনঃ তখন ফ*ল-ফলাদীতে প্রচুর বরকত হবে, মানুষের সম্পদ বৃ*দ্ধি পাবে, ইসলাম বিজয়ী হবে, ইসলামে*র শত্রুরা পরাজিত হবে এবং সকল প্র*কার কল্যাণ বিরা*জ করবে।

ইমা*ম মাহদীর পরিচ*য়ঃ
তাঁর না*ম হবে আমাদের ন*বী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লা*ম এর নামের মতই এবং তাঁর পি*তার নাম হবে আমাদে*র নবী সাল্লাল্লাহু আলাই*হি ওয়া সাল্লাম এর পিতা*র নামের মতই। তি*নি হবেন হাসান বিন আ*লী (রাঃ) এর বংশ থেকে। ইবনে কাছী*র (রঃ) বলেনঃ ‘‘তিনি হলে*ন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লা*হ আল-ফাতেমী আ*ল-হাসানী’’।

তাঁ*র আগমণে*র স্থানঃ

তিনি পূ*র্বের কোন একটি অঞ্চল থে*কে প্রকাশিত হবেন। তবে পূ*র্ব দিক বলতে মদীনা মু*নাওয়ারা হতে পূর্বের দিক বুঝানো হ*য়েছে। নবী সাল্লাল্লা*হু আলাইহি ও*য়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘তোমাদে*র গুপ্তধনের নিকট তিনজ*ন লোক ঝগড়া করবে। প্রত্যেকেই হবে খলীফার পু*ত্র। কেউ তা দখল কর*তে পারবেনা। অতঃপর পূর্বে*র দিক থেকে কালো পতাকাধা*রী একদল সৈনিক আসবে। তা*রা ব্যাপক হত্যাকান্ড চালাবে। হাদীছে*র বর্ণনাকারী বলেনঃ ‘‘এরপর ন*বী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এম*ন কিছু বিষয়ের ক*থা বর্ণনা করলেন যা আমি স্মর*ণ রাখতে পারিনি। তোমরা যখ*ন তাদেরকে দেখতে পাবে তখন তাদে*র নেতার হাতে বায়আত করবে। য*দিও বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে উপস্থি*ত হতে হয়। কেননা তিনি হলে*ন আল্লাহর খলীফা মাহ*দী’’।

ইমা*ম ইবনে কাছীর (রঃ) বলেনঃ ‘‘উল্লেখি*ত হাদীছে যে ধন-ভান্ডারে*র কথা বলা হয়েছে তা হ*ল কা’বা ঘরের ধন-ভান্ডা*র। তিন*জন খলীফার পুত্র তা দ*খল করার জন্য ঝগড়া কর*বে। কেউ তা দখল করতে পারবে*না। সর্বশেষে আখেরী যামানা*য় পূর্বের কোন একটি দেশ হ*তে মাহদী আগমণ করবেন। মূর্খ শি*য়ারা সামেরার গর্ত হতে ই*মাম মাহদী বের হওয়া*র যে দাবী করে তা সম্পূর্ণ মি*থ্যা। তারা আরো দা*বী করে যে তিনি গর্তের মাঝে লুকায়িত আ*ছেন। শিয়াদের একটি দ*ল প্রতিদিন সে গর্তের কাছে দাঁড়ি*য়ে আপেক্ষা করে। এ ধরণে*র আরো অনেক হাস্যকর কাল্পনিক ঘটনা বর্ণিত আ*ছে। এসমস্ত কথার পক্ষে কোন দলী*ল নেই; বরং কু*রআন, হাদীছ এবং বিবেক বহির্ভূত ক*থা। তিনি আরো বলেনঃ পূর্বাঞ্চলে*র লোকেরা তাঁকে সাহায্য কর*বে এবং তাঁর শাসনকে সমর্থন কর*বে। তাঁরা কালো পতাকাধারী হবে*ন। মোটকথা আখেরী যামানা*য় পূর্বদেশ হতে তাঁর বের হও*য়া সত্য। কা’বা ঘরে*র পাশে তাঁর জন্যে বায়আ*ত করা হবে’’।

• মাহ*দী আগমণের দলীল*সমূহঃ

ইমা*ম মাহদীর আগমণে*র ব্যাপারে অনেক সহীহ হাদী*ছ রয়েছে। কোন কোন হাদী*ছে প্রকাশ্যভাবে তাঁর না*ম উল্লেখ আছে। আবার কো*ন কোন হা*দীছে তাঁর গুণাগুণ উ*ল্লেখিত হয়েছে। তাঁর আগম*ণ সত্য হওয়ার জন্য এ স*মস্ত হাদীছই যথেষ্ট।

১) আবু সাঈ*দ খুদরী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লা*হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করে*ন, ‘‘আখেরী যামানায় আমা*র উম্মাতের ভিতরে মাহদীর আগমণ ঘ*টবে। তাঁর শাসনকালে আ*কাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে, য*মিন প্রচুর ফসল উৎপন্ন করবে, তিনি মা*নুষের মাঝে সমানভাবে প্রচুর সম্পদ বি*তরণ করবেন, গৃহপালিত প*শুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং উ*ম্মাতে মুহাম্মাদীর সম্মান বৃদ্ধি পা*বে। তিনি সাত বছর কিং*বা আট বছর জীবিত থাক*বেন’’।

২) আ*বু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ*তে আরও বর্ণিত আছে, ন*বী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সা*ল্লাম বলেনঃ ‘‘আমি তোমাদের*কে মাহদীর আগমণ স*ম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছি। মা*নুষেরা যখন মতবিরো*ধে লিপ্ত হবে তখন তিনি প্রেরিত হ*বেন। পৃথিবী হতে জুলুম-নির্যাতন দূ*র করে ন্যায়-ইনসাফ দ্বা*রা তা ভরে দিবেন। আসমান-য*মীনের সকল অধি*বাসী তার উপর স*ন্তুষ্ট হবেন। তিনি মানুষের মা*ঝে সমানভাবে প্রচুর সম্পদ বি*তরণ করবেন’’।

৩) ন*বী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সা*ল্লাম বলেনঃ
الْمَهْدِيُّ مِنِّي أَجْلَى الْجَبْهَةِ أَقْنَى الْأَنْفِ يَمْلَأُ الْأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلًا كَمَا مُلِئَتْ جَوْرًا وَظُلْمًا يَمْلِكُ سَبْعَ سِنِينَ
‘‘মা*হদী আসবেন আমার বংশধর হ*তে। তাঁর কপাল হবে উজ্জ*ল এবং নাক হবে উঁচু। পৃথিবী হ*তে যুলুম-নির্যাতন দূর করে দি*য়ে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা তা ভরে দি*বেন। সাত ব*ছর পর্যন্ত তি*নি রাজত্ব করবেন’’।

৪) উ*ম্মে সালামা (রাঃ) ব*লেনঃ ‘‘আ*মি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই*হি ওয়া সাল্লামকে বলতে শু*নেছিঃ মাহদীর আগমণ হ*বে আমার পরি*বারের ফাতেমার বংশধ*র হতে’’।

৫) জাবে*র (রাঃ) বলেনঃ রা*সূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও*য়া সাল্লাম বলেছেনঃ ঈসা (আঃ) য*খন অবতরণ করবেন তখন মু*সলমানদের আমীর তাঁকে ব*লবেনঃ আসুন! আমাদে*র নামাযের ইমাম*তি করুন। ঈসা (আঃ) বলবেনঃ ব*রং তোমাদের আমীর তো*মাদের মধ্যে হতেই। এই উ*ম্মতের সম্মানের কারণে*ই তিনি এ মন্তব্য করবেন’’।

ইমা*ম ইবনুল কাইয়্যেম আ*ল-মানারুল মুনীফ গ্র*ন্থে উক্ত হাদীছটি বর্ণ*না করেছেন। যেই আমীরে*র ইমামতিতে মুসলমানগ*ণ নামায পড়বেন, তি*ন তাঁর নামও উল্লেখ ক*রেছেন। আর তি*নি হলেন মাহদী। এই হাদীছ স*ম্পর্কে ইবনুল কায়্যেম বলেনঃ হা*দীছের সনদ খুব ভাল।

৬) আ*বু সাঈদ খুদ*রী (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লা*হু আলাইহি ও*য়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেনঃ ‘‘ঈ*সা ইবনে মারইয়াম যেই ইমামের পি*ছনে নামায পড়বেন তিনি হবেন আ*মাদের মধ্যে হতে’’।

৭) নবী সাল*লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লা*ম বলেনঃ ‘‘তত*দিন দুনিয়া ধ্বংস হবেনা যতদিন না আ*মার পরিবারের একজন লোক আরব*দের বাদশা হবেন। তাঁর না*ম হবে আমার নামে এবং তাঁ*র পিতার নাম হবে আ*মার পিতার নামের অনুরূপ’’। অর্থাৎ তাঁর না*ম হবে মুহাম্মাদ বি*ন আব্দুল্লাহ।

৮) উম্মে সা*লামা (রাঃ) ব*লেনঃ নবী সা*ল্লাল্লাহু আলাইহি ও*য়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘কা’বা ঘ*রের পাশে একজন লোক আশ্র*য় নিবে। তাঁর বিরুদ্ধে এক*দল সৈনিক প্রে*রণ করা হবে। সৈ*ন্যরা যখন ‘বায়*দা’ নামক স্থানে পৌঁছ*বে তখন যমিন তাদেরকে গ্রা*স করে ফেলবে। উম্মে সা*লামা বলেনঃ আমি রাসূল সা*ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম*কে জিজ্ঞেস করলাম অপছন্দ সত্ত্বেও যা*রা তাদের সাথে যাবে তাদে*র অবস্থা কি হবে? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই*হি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তা*কে সহ যমিন ধসে যাবে। ত*বে কিয়ামতের দিন সে আ*পন নিয়তের উপরে পুনরুত্থিত হবে’’।

৯) হাফ*সা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রা*সূল সাললাল্লাহু আলাই*হি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘অচি*রেই এই ঘরের অর্থাৎ কা’বা ঘরে*র পাশে একদল লো*ক আশ্রয় গ্রহণ করবে। শত্রুর সা*থে মোকাবে*লা করার মত তা*দের কোন উল্লেখযোগ্য সৈনি*ক কিংবা অস্ত্র-শস্ত্র বা প্রস্ত্ততি থাকবে*না। তাদেরকে হত্যা করার জন্য এ*কদল সৈনিক প্রেরণ করা হবে। সৈ*ন্যরা যখন ‘বায়*দা’ নামক স্থানে পৌঁছবে তখন য*মিন তাদেরকে গ্রাস করে ফে*লবে’’।

১০) আয়ে*শা (রাঃ) বলেনঃ ‘‘এক*দা রাসূল সাল্লাল্লা*হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমে*র ঘোরে এলোমেলো কিছু কাজ করলে*ন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ জাগ্র*ত হলে আম*রা তাঁকে বললামঃ ঘুমে*র মধ্যে আপনি আজ এমন কিছু কা*জ করেছেন যা অতী*তে কখনও করেন নি। তিনি বললেনঃ আমা*র উম্মাতের একদল লো*ক কা’বার পাশে আশ্রয় গ্র*হণকারী কুরাইশ বংশে*র একজন লোকের বিরু*দ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হ*বে। তারা যখন ‘বায়দা’ নামক স্থানে পৌঁ*ছবে তখন তাদেরকে নিয়ে যমিন ধ*সে যাবে। আমরা ব*ললামঃ হে আল্লাহ*র রাসূল! তখন তো রাস্তা*য় বিভিন্ন ধরণের লোক থাকবে। ন*বী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বল*লেনঃ তাদের ভিতর এ*মন লোক থাকবে যারা নিজেদের*কে গোমরাহ জে*নেও বের হবে, কাউকে বল প্রয়ো*গ করে আনা হবে এবং তাদের মধ্যে মুসাফিরও থাক*বে। তারা সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে সকলকে*ই আল্লাহ তা’আলা নি*য়তের উপর পুন*রুত্থিত করবেন।

তাদের*কে নিয়তের উ*পর পুনরুত্থিত করা*র অর্থ তাদের কেউ জান্না*তে যাবে আবার কেউ জাহান্না*মে প্রবেশ করবে। যা*রা নিজেদের ভ্রান্ত জেনেও উক্ত ই*মামের বিরুদ্ধে যু*দ্ধ করতে বে*র হবে তারা জাহান্নামী হ*বে। আর যাদেরকে বাধ্য করে আ*না হবে তাদের কোন অপরাধ হবেনা। এ*মনিভাবে পথিক ও পার্শ্ববর্তী স্থা*নের লোকেরাও উক্ত ভূমিধস থে*কে রে*হাই পাবেনা। কিন্তু সকল শ্রেণীর লো*ক নিজ নিজ আমল নিয়ে পুনরুত্থিত হ*বে।

উ*পরের তিনটি হাদীছ থেকে জা*না গেল যেই লোকটি কা’বার প্রান্তে আ*শ্রয় গ্রহণ করবেন তি*নি হবেন কুরাইশ বংশের অন্তর্ভূক্ত। তি*নি আল্লাহর সা*হায্য প্রাপ্ত হবেন এ*বং তাঁর শত্রুদের*কে ভূমিধসের মাধ্যমে ধ্বংস কর*বেন।

• বু*খারী ও মুসলিম শরীফে ইমাম মা*হদী সম্পর্কিত কি*ছু হাদীছঃ
১) ন*বী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব*লেনঃ
كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ وَإِمَامُكُمْ مِنْكُمْ
‘‘সেদি*ন কেমন হবে তোমাদের অবস্থা যেদিন তো*মাদের মধ্যে ঈসা ইবনে মারইয়াম নেমে আস*বেন এবং তোমাদের ম*ধ্যে হতেই একজন ই*মাম হবেন’’। অর্থাৎ তো*মাদের সাথে জামা’তে শ*রীক হয়ে ঈসা (আঃ) তো*মাদের ইমামের পিছনে না*মায আদায় ক*রবেন।

২) জাবের (রাঃ) ব*লেনঃ আমি রাসূল সা*ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সা*ল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘আ*মার উম্মাতের একটি দল হ*কের উপর বিজয়ী থেকে কি*য়ামত পর্যন্ত ল*ড়াই করতে থাক*বে। অতঃপর ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতর*ণ করবেন। তাকে দেখে মুসলমানদের আমীর বল*বেনঃ আসুন! আ*মাদেরকে নিয়ে নামাযের ইমামতি ক*রুন। ঈসা (আঃ) ব*লবেনঃ না; বরং তোমাদে*র আমীর তোমাদের মধ্যে হ*তেই। এই উম্মাতের সম্মানের কা*রণেই তিনি এ মন্তব্য ক*রবেন’’।

৩) নবী সাল*লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আ*খেরী যামানায় আমার উম্মাতে*র মধ্যে একজন খলীফা হবেন যিনি মা*নুষের মধ্যে মুক্ত হস্তে অ*গণিতভাবে ধন-সম্পদ বি*তরণ করবেন’’।

• মা*হদী আগমণে*র ব্যাপারে কতিপ*য় বিজ্ঞ আলেমের ব*ক্তব্যঃ
ক) হাফে*য আবুল হাসান আল-আবেরী (রঃ) বলেনঃ ‘‘মাহদী স*ম্পর্কিত হাদীছগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আ*লাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির হি*সেবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি আ*হলে বায়*ত তথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সা*ল্লামএর বংশধরের অন্তর্ভূক্ত হ*বেন। সাত বছর রাজত্ব করবে*ন। তাঁর রাজত্বকালে পৃ*থিবী ন্যায়-ইনসাফে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। তাঁ*র রাজত্বকা*লে ঈসা ই*বনে মারইয়াম (আঃ) আগমণ ক*রে দাজ্জালকে হত্যা ক*রবেন। ঈসা (আঃ) তাঁর পি*ছনে নামায পড়বেন’’।

খ) ই*মাম শাওকানী (রঃ) বলেনঃ ‘‘যত*দূর জানা যায় মাহদীর ব্যা*পারে ৫০টি মু*তাওয়াতির হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। তা*র মধ্যে রয়েছে সহীহ, হা*সান ও সামান্য ত্রুটি বিশিষ্ট হা*দীছ, যা অন্য সূত্রে ব*র্ণিত হওয়ার কারণে ত্রুটিমুক্ত হ*য়ে গেছে। সুতরাং বিনা স*ন্দেহে হাদীছগুলো মু*তাওয়াতির’’।

গ) শায়*খ আব্দুল আযীয বিন বা*য (রঃ) বলেনঃ মাহদী*র বিষয়টি অতি সু*স্পষ্ট। এ ব্যাপারে হাদীছ*গুলো মুতাওয়াতি*র সূত্রে বর্ণিত। তাঁ*র আগমণ সত্য। তিনি হ*লেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লা*হ আল-হাসানী আল-ফাতেমী। আ*খেরী যামানায় তিনি আ*গমণ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন। অ*ন্যায়-অবিচার প্রতিহত করবেন। তাঁ*র মাধ্যমে আল্লাহ সত্য ও কল্যাণে*র ঝান্ডা বলুন্দ ক*রবেন। যে ব্যক্তি আখেরী যামানা*য় ইমাম মাহদীর আগমণ*কে অস্বীকার করবে তার ক*থায় কর্ণপাত করা যাবেনা।

ঘ) শায়*খ আব্দুল মুহসিন আল-আব*বাদ বলেনঃ ‘‘২৬জন সাহাবী থেকে মাহ*দীর আগমণ সম্পর্কিত হাদীছগুলো ব*র্ণিত হয়েছে। ৩৬টি হাদীছ গ্রন্থে এ স*মস্ত হাদীছ বর্ণিত হয়েছে’’।উপরে*র আলোচ*না থেকে আমরা জানতে পারলাম, ই*মাম মাহদীর আগমণে বিশ্বাস স্থাপন ক*রা ওয়াজিব। কারণ তাঁর আ*গমণের ব্যাপারে অনেক সহীহ হা*দীছ বর্ণিত হয়েছে। ঈসা ইব*নে মারইয়াম (আঃ) যখন আকাশ থেকে অ*বতরণ করবেন তখন ইমাম মাহদীর নে*র্তৃত্বে মুসলমানগণ স্বসম্মান ও সুখণ্ডশান্তিতে ব*সবাস করতে থাকবেন। ই*মাম মাহদী মুসলমানদের*কে নিয়ে নামাযের ইমাম*তি করার জন্য প্রস্ত্ততি নিতে থা*কবেন।

এমন স*ময় ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) আ*কাশ থেকে আ*গমণ করবেন। ইমাম মাহদী ঈসা (আঃ)কে দে*খে বলবেনঃ সামনে অ*গ্রসর হোন এবং আমাদের ই*মামতি করুন। হাদীছে*র ভাষ্য অনুযায়ী আরো জা*না যায় যে, ইমাম মা*হদীর সময় মুসলমানদের ঈ*মান ও শক্তি ধ্বংস করার জ*ন্য দাজ্জালের আ*গমণ ঘটবে। দাজ্জালের মো*কাবেলা করার জন্য আল্লা*হ তাআলা ঈসা (আঃ) কে পা*ঠাবেন। ইমাম মাহদীও তাঁর সাথে মি*লিত হয়ে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হ*য়ে তাকে এবং তার বাহিনীকে খ*তম করে মু*সলমানদেরকে দাজ্জালের ফি*তনা হতে মুক্ত করবেন।

ঙ) সিদ্দি*ক হাসান খান ভূপালী (রঃ) বলে*নঃ ‘‘মাহদীর ব্যাপারে অনে*ক হাদীছ বিভিন্ন গ্রন্থে মুতাওয়াতি*র সূত্রে বর্ণিত হয়েছে’’।

চ) সুনা*নে আবু দাউদ শরীফের ভাষ্যকা*র আল্লামা শামছুল হক আযীমা*বাদী (রঃ) বলেনঃ ‘‘সর্ব যুগের স*কল মুসলমানদের মাঝে এ*কথা অতি প্রসিদ্ধ যে, আখেরী যা*মানায় নবী সাল্লাল্লা*হু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বংশধ*র হতে একজন সৎলোকের আগমণ ঘ*টবে। তিনি এই দ্বীনকে শক্তিশালী করবে*ন। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবে*ন। মুসলমানগণ তাঁর অনুসরণ কর*বে। সমস্ত ইসলামী রাজ্যে*র উপর তাঁর আধিপত্য বিস্তার হ*বে। তাঁর নাম হবে মা*হদী। তাঁর আগমণের পরেই স*হীহ হাদীছে বর্ণিত কিয়ামতের অন্যান্য ব*ড় আ*লামতগুলো প্রকাশিত হবে। তাঁর যামানাতে*ই ঈসা (আঃ) আগমণ করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবে*ন। এ ব্যাপারে মাহদীও তাঁকে সহযোগিতা করবে*ন।

উ*পরের বিস্তারিত আলোচনা থেকে ই*মাম মাহদী সম্পর্কে আমরা যা অব*গত হলাম তার সংক্ষিপ্ত কথা হল আ*খেরী যামানায় এই উম্মতের ম*ধ্যে একজন সৎ লোক আগ*মণ করবেন। মাকামে ইব*রাহীম এবং রুকনে ইয়ামানীর ম*ধ্যবর্তী স্থানে মুসলমানগণ তাঁ*র হাতে বায়আত করবে। তাঁকে হ*ত্যা করার জন্য সিরিয়া থেকে এ*কদল সৈন্য প্রেরণ করা হবে। সৈন্যদল*টি যখন মক্কার পথে ‘বায়দা’ না*মক স্থানে পৌঁছবে তখন ভূ*মিধসে সকল সৈন্য হালাক হয়ে যাবে। আ*ল্লাহ তাআলা ইমাম মা*হদীকে এভাবে তাঁর শ*ত্রুদের হাত থেকে হেফাযত ক*রবেন। তিনি মুসলমানদের খ*লীফা হয়ে ইসলামের মা*ধ্যমে বিচার-ফয়সালা করবেন। তাঁ*র যামানায় মু*সলমানদের মাঝে চরম সু*খণ্ডশান্তি ও নেয়া’মত বি*রাজ করবে। অতঃপ*র তিনি দামে*স্কের মসজিদে ফ*জরের নামাযের সময় ঈ*সা (আঃ)এর সাথে সাক্ষাৎ ক*বেন। প্রথমে তিনি ঈসা (আঃ) কে না*মাযের ইমামতি করার অ*নুরোধ জানাবে*ন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান ক*রলে স্বয়ং ইমাম মাহদী ইমাম*তি করবেন। ঈসা ইবনে মারইয়া*ম (আঃ) ইমাম মাহদীর পি*ছনে মুক্তাদী হয়ে নামায আদা*য় করবেন। অতঃপ*র তিনি ঈসা (আঃ) এর সাথে যো*গ দিয়ে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা*র জন্য বের হবেন এবং দাজ্জা*ল হত্যার কাজে ঈসা (আঃ) কে স*হায়তা করবেন। তারপর তি*নি সাত বছর ম*তান্তরে নয় বছর পৃথিবীতে বসবাস ক*রে মৃত্যু বরণ করবেন। মু*সলমানগণ তাঁর জানাযা না*মায পড়বে।


[1] النهاية/ الفتن و الملاحم ( ১/ ৩১) –
[2] – নিহা*য়া, অধ্যায়ঃ আল-ফিতান ওয়াল মা*লাহিম।
[3] – ইবনে মাজা*হ, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান। ইমাম আল*বানী বলেনঃ ‘আল্লাহর খলীফা’ ক*থাটি ব্যতীত হাদীছের বাকী অংশ সহীহ।
[4] – (النهاية/ الفتن و الملاحم ( ১/২৯-৩০
[5] – মুস্তাদরাকু*ল হাকিম। ইমাম আলবানী (রঃ) হা*দীছটিকে সহীহ বলেছেন। সিলসিলায়ে সা*হীহা, হাদীছ নং- ৭১১।
[6] – মুসনাদে আহমা*দ। ইমাম হায়ছামী ব*লেনঃ হাদীছে*র বর্ণনাকারীগন নি*র্ভরযোগ্য। মাজমাউ য্ যা*ওয়ায়েদ (৭/৩১৩-৩১৪)।
[7] – আবু দাউ*দ, অধ্যায়ঃ কিতাবুল মাহদী, সহীহু*ল জামে আস্ সাগীর, হা*দীছ নং- ৬৬১২।
[8] – আবু দাউ*দ ও ইবনে মাজাহ। ইমা*ম আলবানী (রঃ) সহীহ বলেছে*ন। সহীহুল জামেউ, হাদী*ছ নং- ৬৬১২।
[9] – আল-মানারুল মুনী*ফ, (পৃষ্ঠা নং-১৪৭-১৪৮) ইমাম ইবনুল কায়্যিম বলেনঃ হা*দীছের সনদ ভাল।
[10] – আল-মানা*রুল মুনীফ, পৃ*ষ্ঠা নং- ১৪৮।
[11]- আবু নুয়াই*ম আখবারুল মাহদী নামক গ্রন্থে হাদীছ*টি বর্ণনা করেছেন। সহীহু*ল জামে আস্-সাগীর, হা*দীছ নং- ৫৭৯৬।
[12] – মুসনাদে আহমা*দ, সহীহুল জামেউস্ সা*গীর, হাদীছ নং- ৫১৮০।
[13] – মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবু*ল ফিতান।
[14] – মুসলিম, অ*ধ্যায়ঃ কিতাবুল ফি*তান।
[15] – মুসলিম, অধ্যা*য়ঃ কিতাবুল ফিতা*ন।
[16] – বুখারী, অ*ধ্যায়ঃ আহাদীছু*ল আম্বীয়া, মুসলি*ম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈ*মান।
[17] – মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতা*বুল ঈমান।
[18] – মুসলিম, অধ্যা*য়ঃ কিতাবুল ফিতা*ন।
[19] – تهذيب الكمال فى أسماء الرجال (৩ /১১৯৪)
[20] – نظم المتناثر من الحديث المتواتر (ص ১৪৫-১৪৬)
[21] – উ*সূলে হাদীছের পরিভাষা*য় মুতাওয়াতির ঐ হা*দীছকে বলা হয় যার ব*র্ণনাকারীর সংখ্যা অধিক হওয়ার কা*রণে মিথ্যার উপর তাদের এ*কমত হওয়ার ক*ল্পনাও করা যায়না।
[22] – আশ*রাতুস্ সাআ, ডঃ আব্দুল্লাহ সুলায়মান আল-গুফায়লী, পৃ*ষ্ঠা নং- ৮৭
[23] – الرد على من كذب بالأحاديث الصحيحة الواردة فى المهدى
[24] – الإذاعة لما كان و ما يكون بين يدى الساعة ص ১১২


(বইঃ কি*য়ামতের আলামত থেকে সংগৃহীত) লেখক: শা*ইখ আব্দুল্লাহ বিন শাহেদ আল-মাদানী। লি*সান্স: মদীনা ইস*লামী বিশ্ববিদ্যালয়, এম,এম, ফাস্ট ক্লাশ। প্র*কাশনায়: জু*বাইল দাওয়াহ এন্ড গাই*ডেন্স সেন্টার, সৌ*দী আরব।

Facebook Comments

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button