fbpx
গল্প-কবিতা

ইমাম মা*হাদী ও তার আগম*ন পূর্ব আ*লামত সমূহ

ইতি*হাস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে রাসূলে ক*রীম (সাঃ)- এর ইন্তে*কালের পর ইমাম মা*হদী হওয়ার দাবী*দার বহু*লোকের আবি*র্ভাব এই পৃথি*বীতে ঘটেছে এবং ঘটছে। প্র*কৃত মাহ*দীর আত্ম*প্রকাশের পূর্বে বহু*লোক মিথ্যা মা*হদী সেজে মা*নুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করছে।টএর মধ্যে (১) মির্জা গো*লাম আহমদ কাদি*য়ানী (২) সিরি*য়ার এক বিভ্রান্ত যুবক (৩) বাংলা*দেশের অন্তর্গত বরি*শালের এক ভন্ড মাও*লানা (৪) দক্ষিণ ইয়ে*মেনের একজন বস্ত্র ব্যব*সায়ী (৫) ইরানের এ*কজন সিয়া নেতা এবং (৬) ১৪০০ হি*জরীর শুভলগ্নে প*বিত্র কাবা গৃহ দ*খলকারী এক মো*হাম্মদ নাম*ধারী যুবক ভন্ড মাহ*দী রূপে আ*ত্মপ্রকাশ ক*রেছিল।


কিন্তু তা*দের কারোরই পরি*ণাম সুখের হয় নাই। মির্জা গো*লাম আহমদ কাদি*য়ানী পায়*খানায় পড়ে প্রাণ হা*রায়। সিরি*য়ার বিভ্রান্ত যুবক*টিকে বিষাক্ত বিচ্ছু কাম*ড়িয়ে হত্যা করে। ভন্ড মাও*লানাটি পেশাব পায়*খানা চা*টতে চাটতে মৃত্যু মুখে প*তিত হয়। বস্ত্র ব্যব*সায়ীটি বন্য কুকুরের আক্র*মনে মারা যায়। শিয়া নে*তাটি গু*লীবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে বলে শোনা যায়। অ*নুরূপভাবে ভন্ড নবী দাবীদার*গণের পরি*ণাম অত্যন্ত ভয়া*বহ ও মর্মন্তুদ হয়ে*ছিল। সুতরাং পৃথি*বীর এই ক্রান্তিলগ্নে প্রকৃত মাহদীর পরি*চয় জেনে রাখা প্রতিটি মুমীন বা*ন্দার অবশ্য কর্তব্য।

মাহ*দী শব্দটির মূল*ধাতু হচ্ছে ‘হাদিউন’ অর্থাৎ ‘হা’ বর্ণ, ‘দাল’ বর্ণ ও ‘ইয়া’ বর্ণ। এর আভি*ধানিক অর্থ হল সুপথ, মঙ্গল পথ, সোজা পথ, আলো*কিত পথ, যে পথে মঞ্জিলে মকছুদে পৌঁছা যায়, যে পথে প্র*কৃত সত্তার উ*পলব্ধি সহজ হয়। এই পরি*প্রেক্ষিতে মাহদী শব্দের ব্যব*হারিক অর্থ দাঁড়ায় সুপথ প্রা*প্ত কর্ণধার, হে*দায়েত দান*কারী ও আ*ল্লাহ পাকের রে*জামন্দি লাভকারী। সু*তরাং ইমাম মাহদী উচ্ছৃংখল মানব গো*ষ্ঠি ও সত্যপথ হতে বি*চ্যুত মানব স*মাজকে হেদায়েতপূর্ণ আ*লোকে আলোকিত ক*রবেন এবং আ*লাহর সঙ্গে ও বা*ন্দার সঙ্গে ঈমানের নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন ক*রবেন।
(আল মুনজেদ, লেছানুল আরব, মিছবাহ)

ইমাম মা*হদী নি*য়মিতভাবে কোন স্কুল, ক*লেজ, মাদ্রাসা বা অন্য কোথাও লেখা*পড়া করবেন না। এমনকি কোন সাম*রিক প্রশিক্ষণও তিনি কোন সা*মরিক একাডে*মী থেকে গ্রহন কর*বেন না। তার ‘এলমে লাদুন্নী’ অর্থাৎ আল্লা*হ প্রদত্ত জ্ঞান- বিজ্ঞান থাকবে। নি*য়মিত কোন বি*দ্যালয়ে না পড়েও তিনি অগাধ জ্ঞান- গরীমা ও মনী*ষার অধিকারী হবেন। ভূ*গোল, দর্শন, ইতিহাস, বিজ্ঞান, শিল্প, কৃষি, সা*হিত্য, চারু ও কারু*কলা, প্রকৌশল বিজ্ঞান, চি*কিৎসা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি বিজ্ঞান, স*মর বিজ্ঞান, অস্ত্রচালনা, সৈন্য প*রিচালনা, বক্তৃতা ইত্যাদি বিষয়ে তি*নি প্রভৃত জ্ঞান ও বিবেক বি*বেচনার অধিকারী হবেন। পৃথিবীর প্রত্যেক বি*ষয়ের জ্ঞানের আধাররুপে তিনি আ*বির্ভূত হবেন।
(সারাংশ মেশকাত ও আবু দাউদ শ রীফ)

হ*যরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর*শাদ করেছেন, যে, ইমাম মা*হদী রাসূলুল্লাহ (সাঃ)- এর বংশে এবং খাতুনে জা*ন্নাত হযরত ফা*তেমা জোহরার (রাঃ) আও*লাদের মধ্যে থেকে আবির্ভূত হবেন। তার মাতা-পি*তার বংশ সূত্র হ*যরত হাসান (রাঃ)-এর সা*থে মিলিত হবে।

তার শারী*রিক গঠন অজ্ঞাবয়ব একটু লম্বা ধর*নের হবে। যে কোন দলে বা যে কোন কাতারে দাঁ*ড়ালে তাকে স*কলের উর্ধে দেখা যাবে। তার গা*য়ের রং খুবই উজ্জল হবে এবং শরীর হবে নিখুঁত ও ছিমছাম। তার মুখ*মন্ডলে একটি বিশেষ নূরের জ্যোতি বি*কশিত থাকবে। নাক উন্নত ও চে*হারা সুগঠিত হবে। তাছাড়া তার চে*হারা হযরত মো*হাম্মদ (সাঃ) এর চেহা*রার অনুরুপ হবে।
(মুস*লিম ও আবু দাউদ শরীফ)

তার নাম হবে মো*হাম্মদ। পিতার নাম হবে আব*দুল্লাহ এবং মা*তার নাম হবে আমেনা। তার মুখে সা*মান্য তোত*লামী জড়তা থাকবে। এই*জন্য কথা বলবার সময় তার একটূ কষ্ট হবে এবং কোন কোন কথা ব*লবার সময় ঐ কষ্টের কারনে বি*রক্ত হয়ে নিজের উরুর উ*পর হাত মার*বেন।
(আবু দাউদ শরীফ)

হ*যরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হয*রত রাসূলে করীম (সাঃ) ব*লেছেন, ট্রাঞ্চ আক*ছানীয়া হতে হারেছ হার*রাছ নামক এক ব্যক্তি বের হবে। তার স*ম্মুখ ভাগে থাকবে মান*সুর নামে এক ব্যক্তি। যেরুপ কোরেশগণ [এখা*নে কোরেশের অর্থ ঐ কো*রেশগণ যারা মসুলমান। হয*রত রাসূলে করীম (সাঃ)- কে বস*বাস করতে সা*হায্য করেছিল, তদ্রুপ সে মো*হাম্মদের (সাঃ) বংশ*ধরগণকেও বসবাস করতে দিবে। তা*কে (সর্বতভাবে) সাহায্য করা প্র*ত্যেক ঈমান দা*রের অবশ্য কর্তব্য।
(আবু দাউদ শ*রীফ)

হ*যরত ই*ছহাক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হয*রত আলী (রা) তাঁর ছেলে হা*ছানের (রাঃ) দিকে তা*কিয়ে বলে*ছিলেন, যেমন হ*যরত রাসূলে ক*রীম (সাঃ) আমা*র ছেলে হাছানকে (রাঃ) বলে*ছিলেন, সেরকম ভা*বেই; তার বংশ হতে এমন একজন জন্ম গ্রহ্ন ক*রবে যার নাম হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর নাম অনু*সারে রাখা হবে। তার শ*রীর আঁ হ*যরতের (সাঃ) দেহ মো*বারকের মতই হবে। তারপর হ*যরত আলী (রাঃ) তার সম্পর্কে বিবৃতি দিলেন। তি*নি সুবিচার ও ইনসাফ এর মা*ধ্যমে পৃথিবীকে প*রিপূর্ণ করবেন।

হয*রত ছাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হয*রত রাসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, যখন তো*মরা খোরাছান হতে কালো পতাকা দে*খতে পাবে তখন তাদের সাথে যো*গদান করবে। কেননা আ*ল্লাহর খলীফা মাহদী তাদের ভিতরে থাকবেন। (মাছ*নাদে আহমদ ও বায়হাকী শরীফ) সেই সকল হারেছ হারাছের। যার নাম ইতি*পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। ই*মাম মাহদী (রাঃ) তা*দের মধ্যে থাকবেন।

য*খন ইমাম মাহদীর বয়স চ*ল্লিশ বছর পরিপূর্ণ হবে এবং যখন তি*নি খেলাফতের গুরুভার ব*হন করার ক্ষমতা অর্জন কর*বেন তখন তার আবির্ভাব ঘটবে। তা*র আবির্ভাবের পূর্ব মুহূর্তে প*বিত্র রমজান মাসে চন্দ্র গ্র*হন ও সূর্য গ্রহন হবে। যে বছরে এই অ*লৌকিক কান্ড ঘটবে সেই বছরই ই*মাম মাহদীর আ*বির্ভাব ঘটবে।
(মেশকাত শরীফ)

তা*র আবির্ভাব নিয়ে অনেকেই অনেক রকম ভবি*ষ্যতবাণী করেছেন। কিন্তু আমরা এ ধর*নের ভবিষ্যত বাণী মেনে নিতে পারিনা। কা*রন ইসলামের বিধান অনু*সারে এই ধরনের ভবি*ষ্যত বানী মানা হারাম। তবে এই বিষয়ে হাদীস শরীফে যেহেতু সুস্পষ্ট কো*ন কিছু বলা নাই তাই এই সম্বন্ধে নীরবতা পালন করাই ভাল। কে*ননা আল্লাহই এ সম্পর্কে ভাল জানেন।

ইমা*ম মাহদীর আত্মপ্রকাশের পূর্বে ও পরে পৃথি*বীতে যেসকল বিপ*দাপদ ও লক্ষণ প্রকাশিত হবে সেসব সম্বন্ধে পবিত্র হাদীস শরী*ফে সুস্পষ্ট বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। আ*মি সেসব তুলে ধ*রার চেষ্টা করছি।

একের পর এক বিপদ আসা

হয*রত হোজায়ফা (রাঃ) হতে ব*র্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বলে*ছেন, একটি খাটের যেমন একটি ত*ক্তার পর আরেক*টি তক্তা হয়, সে*রকম বিপদাপদও হৃদয়ের উপর প*তিত হবে। যে হৃদয় তা পান করবে তার উপর একটি সা*দা চিহ্ন অংকিত হবে। এইভাবে দুটি হৃদয় হবে। এ*কটি শেত পাথরের মত শুভ্র হবে। যে পর্যন্ত জমীন ও আস*মান বি*দ্যমান থাকবে সে পর্যন্ত কোনও বিপ*দাপদ তার বিনষ্ট করতে পারবেনা। অন্য হৃদয়টি উলটানো পা*নির পেয়ালার মত কালো ও অ*প রিষ্কার হবে। এটা কোন প্র*কার ন্যায় ও ম*ঙ্গল জানবে না এবং অমঙ্গলকেও প রিত্যাগ করবে না। কিন্তু সে*চ্ছাকৃত ইচ্ছা দিয়ে পরি*চালিত হবে।
(মুসলিম শরীফ)

দুর্ব*ল ঈমান এবং আ*মানত

হ*যরত হোজায়ফা (রাঃ) হতে ব*র্ণিত আছে যে, হয*রত রাসূলে করীম (সাঃ) আমাদের কাছে দুইটি হাদীস বর্ণনা করে*ছেন। তারমধ্যে একটি আমি দে*খেছি এবং অন্যটির জন্য অপেক্ষা ক*রছি (অর্থাৎ একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছে এবং অন্যটি এখনো ঘটেনি)। ঈ*মান এবং আমা*নত মানুষের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যাবে। তি*নি আরো ব*লেন যে মানুষ পবিত্র কোর*আন ও হাদীসের শিক্ষা ভুলে যাবে। তি*নি আরো বল*লেন যে, কোন লোক নিদ্রায় যাবে তার*পর তার অন্তর থেকে আ*মানত নিয়ে নেয়া হবে। শু*ধু একটি বিন্দুর মত দাগ থা*কবে। এরপর সে আবার নি*দ্রামগ্ন হবে এবং অবশিষ্ট আ*মানত তুলে নেয়া হবে। ত*খন মানুষ ব্যবসা কর*বার জন্য সকালে বা*সা থেকে বের হবে কিন্তু কেউই আ*মানত ফে*রত দিবে না। বলা হবে অমুক অমুক ব্যক্তি বি*শ্বাসী এবং কোনও কোনও ব্য*ক্তিকে বলা হবে যে সে অনেক জ্ঞা*নী! সে কি চতুর! সে কি মা*র্জিত! কিন্তু স*রিষার দানা পরি*মাণ ঈ*মানও তার মধ্যে থা*কবে না।
(বোখারী ও মুসলিম শরীফ)

স*ময় দ্রুত চলে যাওয়া

হয*রত আবু হো*রায়রা (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, হয*রত রাসূলে করীম (সাঃ) এ*রশাদ করেছেন, সময় নিকট*বর্তী হবে (অর্থাৎ যা*তায়াত এবং সংবাদ আদান প্রদানে বেশী সময় লাগবে না। এবং ধর্ম বিদ্যার মৃত্যু হবে। বিপ*দাপদ দেখা দিবে, কৃপণতা দেখা দিবে এবং হারাজ বেড়ে যাবে। সা*হাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন ‘হারাজ’ কি? উ*ত্তরে আল্লাহর হাবীব আমাদের প্রিয় ন*বী হযরত (সাঃ) বললেন, হত্যা।
(বোখারী ও মুসলীম)

বর্ত*মান যান্ত্রিক যুগে রে*ল, স্টিমার, বিমান ও গাড়ীর সা*হায্যে যাতায়াত অত্যন্ত সহজ*সাধ্য হয়ে গেছে এবং মোবাইল, ইন্টার*নেট, রেডিও, টেলি*ভিশনের মাধ্যমে দ্রুত সংবাদ আদান প্রদান হচ্ছে এছাড়া বর্তমানে খুন একটি স্বা*ভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে সারা বিশ্ব জুড়ে।

আখি*রাতের উপর দুনিয়ার প্রা*ধান্য

হ*যরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে হ*যরত রাসূলে করীম (সাঃ) ব*লেছেন, অন্ধকার রজ*নীর এক অংশ সদৃশ বি*পদাপদের মধ্যেও সৎ কা*জের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও। কো*ন লোক সকালে মুমীন হয়ে বের হবে কিন্তু স*ন্ধ্যাবেলা কাফের হয়ে ফিরবে। আবার সন্ধ্যাবেলা মু*মীন হবে কিন্তু সকালে আ*বার কাফের হবে। এই পৃ*থিবীর ক্ষণস্থায়ী সহায়- সম্পত্তির বিনি*ময়ে তারা তাদের ধর্মকে বিক্রি করবে (অর্থাৎ ঈ*মানের কোনো শক্তিই থাকবে না।
(মুসলিম শরীফ)

জন*সাধারনের কা*জ পরি*ত্যাগ

হযর*ত আবু বাক*রাহ (রাঃ) হতে ব র্ণিত আছে যে, রাসূল (সাঃ) এরশাদ করে*ছেন, অতি শীঘ্রই বি*পদাপদ আপতিত হবে। সাবধা*ন! ক্রমাগত বিপদাপ*দ ঘটবে। সা*বধান! পুনরায় বিপদা*পদ নেমে আসবে। তখন ব*সে থাকা ব্যক্তি পথ চলা ব্যক্তি হ*তে উত্তম হবে এবং পথ চলা ব্যক্তি দৌ*ড়ে লিপ্ত থাকা ব্য*ক্তি হতে উত্তম হবে।

সাব*ধান! যখন এটা ঘটতে থাক*বে তখন ছাগল ও মেষের অধিকারী যেন তার নিজের ছা*গল এবং মেষের নিকটেই থাকে। আর যার জমি আছে সে যে*ন তার জমির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। তখন এক ব্যক্তি জি*জ্ঞেস করল, হে আ*ল্লাহর রাসূল! যার উট, মেষ, ছাগল বা জমি নাই তা*র কি অবস্থা হবে ?

উত্ত*রে রাসূল (সাঃ) ব*ললেন, সে যেন তার তর*বারি পাথরের সা*হায্যে শান দিতে থাকে এবং সম্ভব হলে জ*য়ী হয়। হে আল্লাহ! আমি কি আ*মার সংবাদ পৌঁছে দিয়েছি ? (তি*নি তিন*বার এই কথা বল*লেন)

অন্য এক ব্য*ক্তি জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহ*র রাসূল! যদি আমাকে পছন্দ না করা হয় এবং আ*মাকে কোন পাহাড়ে নিয়ে কেউ যদি ত*রবারি দিয়ে আমাকে আঘা*ত করে কিংবা তীর এসে যদি আ*মাকে হত্যা করে তখন আমার অ*বস্থা কি হবে? এর উত্তরে রাসূল (সাঃ) বললে*ন, সে তোমার এবং তার গোনাহ*র বোঝা করবে এবং জা*হান্নামে নীত হবে।
(বোখারী ও মুসলিম শরীফ)

হযর*ত আব্দুল্লাহ বিন আমর হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলে ক*রীম (সাঃ) এরশাদ করেছে*ন, তখন তোমার কি অবস্থা হবে যখ*ন তুমি দুষ্টু লোক*দের ভিতরে পতিত হবে? তা*দের সন্ধিনামা ও আমান*ত নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারা ম*তবিরোধে লিপ্ত হতে থা*কবে। তারা হবে এরকম (এ বলে রাসূল (সাঃ) স্বী*য় অজ্ঞুলি সমূহকে আলা*দা করে দে*খালেন) তখন সে বল*লো, তখন আপনি আ*মাকে কি করতে নির্দেশ দেন? এর রা*সূল (সাঃ) বললেন, তুমি যা জান তা স*ম্পাদন করবে এবং যা জান না তা পরি*ত্যাগ করবে। তুমি নি*জের কাজে ব্যস্ত থাক*বে এবং জনসাধার*নের কাজ পরিত্যাগ করবে এবং তোমার রসনাকে সংয*ত করবে। তুমি যা জান তা গ্রহন করবে এবং যা জান না তা গ্রহন ক*রবে না। তুমি তোমার নিজের ব্যা*পারে নিবিষ্ট থাকবে এবং জন সা*ধারনের কাজ পরিত্যাগ করবে।
(তিরমিজী শরীফ)

ঘ*রে ঘরে বিপদ আ*পদ

হযর*ত ওমাছাহ বিন জায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে ক*রীম (সাঃ) একবার মদীনা শরীফের উচ্চ স্থানের মধ্যে একটি সুউচ্চ পর্বতে উঠে বললেন, আমি যা দেখছি তোমরা কি তা দেখছো? সাহা*বাগণ উত্তরে বললো না। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন আমি বৃষ্টিপাতের ন্যায় তোমাদের ঘরে বিপদ-আপদ নিপ*তিত হতে দেখছি।
(বোখারী ও মুসলীম শরীফ)

ও*বান (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা:) বলেন: তোমাদের রত্ন-ভাণ্ডা*রের কাছে তিনজন খলীফা-সন্তান যুদ্ধ করতে থাকবে। কেউই দখলে সফল হবে না। প্রাচ্য থেকে তখন একদল কালো ঝাণ্ডা-বাহী লোকের আবির্ভাব হবে। তারা এসে তোমাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করবে। ছাওবান বলেন-অতঃপর নবীজী কি যেন ব*ললেন, আমার ঠিক স্মরণ নেই। এরপর নবীজী বললেন-যখন তোমরা তা দেখতে পাবে, অখন তাঁর কাছে এ*সে বায়াআত হয়ে যেয়ো! যদিও তা করতে তোমাদের হামাগুড়ি দিয়ে বরফের পা*হাড় পাড়ি দিতে হয়…!!

(ইবনে মাজা)

খ*লীফা-সন্তান: অর্থাৎ তিনজন সেনাপতি। স*বাই বাদশার সন্তান হবে। পিতার রাজত্বের দোহাই দিয়ে স*বাই ক্ষমতা দাবী করবে।

রত্ন-ভাণ্ডা*র: কাবা ঘরের নিচে প্রো*থিত রত্নও উদ্দেশ্য হতে পারে। নিছক রা*জত্বও উদ্দেশ্য হতে পারে। কারো কারো মতে রত্ন বলতে এখানে ফু*রাত নদীর উন্মোচিত স্বর্ণ-পর্বত উদ্দেশ্য।

ইব*নে কাছীর (রহ:) বলেন: মাহদীকে প্রাচ্যের নিষ্ঠাবান একটি দলের মাধ্যমে শক্তি*শালী করা হবে। তারা মাহদীকে সহায়তা করবে এবং মাহদীর রা*জত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। তাদের প*তাকাও কালো বর্ণের হবে। এটা গাম্ভীর্যের প্রতীক। কারন, নবী করীম (সা:) এর প*তাকাও কালো ছিল। নাম ছিল উ*কাব।

আ*বু সাঈদ (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী কা*রীম (সা:) বলেন-আমার শেষ উ*ম্মতের মাঝে মাহদী প্রকাশ পাবে। আ*ল্লাহ্‌ তাদের উপর কল্যাণের বারি*ধারা বর্ষণ করবেন। ভূপৃষ্ঠ থেকে গচ্ছিত সকল খ*নিজ সম্পদ উন্মোচিত হবে। ধন সম্পদের সু*সম বণ্টন নিশ্চিত করবে। সাত বা আট বছর সে রাজ্বত করবে…[মুস্তাদরাকে হাকিম]

অ*পর বর্ণনায়- তাঁর মৃত্যুর পর আর কো*ন কল্যাণ থাকবে না…[মুসনাদে আহমদ]

বুঝা গেল মাহ*দীর মৃত্যুর পর পু*নরায় ফেতনা ও সংঘাত ছ*ড়িয়ে পড়বে।

বিন*বায (রহ:) বলেন: মাহদী প্রকাশের বিষয়টি স্বতঃসিদ্ধ। এ *ব্যাপারে নবী কারীম (সা:) থেকে প্রচুর হা*দিস প্রমাণিত রয়েছে। একা*ধিক সাহাবী থেকে পরস্পর বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ্‌র অ*পার রহমতে তিনি শেষ জামানায় ইমাম হবেন। ন্যায় প্র*তিষ্ঠা করবেন। অন্যায়-অবিচার দমন করবেন। শ*ত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হবেন। তার আত্মপ্রকাশে উম্মতের মধ্যে জিহাদের চেতনা ফিরে আসবে। স*কলেই এক কালেমার পতাকা তলে একত্রিত হয়ে যাবে।

আবু সা*ঈদ (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- আমি তো*মাদেরকে মাহদীর সুসংবাদ দিচ্ছি। ভূ-কম্পন ও মা*নুষের বিভেব কালে তার আগমন ঘটবে। ন্যায় নিষ্ঠায় পৃ*থিবী ভরে দেবে, ঠিক যে*মন অন্যায় অবিচার ভরে গিয়েছিল। আসমান জমি*নের অধিবাসীগণ তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। ধন সম্পদের সুসম বণ্টন নি*শ্চিত করবে। ‘সুসম কি’ জিজ্ঞাসা করা হলে বলেছেন- সমান ভাবে। আ*ল্লাহ্‌ ন্যায়ের মাধ্যমে উম্মতে মু*হাম্মদীকে পূর্ণ করে দিবেন। এমনকি একজন ঘো*ষক ঘোষণা করবে- কারো কি স*ম্পদের প্রয়োজন আছে? এক*জন দাড়ি*য়ে বলবে-দায়িত্বশীলকে বল- মাহদী আমাকে সম্পদ দিতে বলেছে। দায়িত্ব*শীল বলবে- উঠাও যা পার! আঁচল ভরে স্বর্ণ রৌপ্য উঠাতে চাইলে ল*জ্জিত হয়ে বলবে- আমি নি*জেকে সবার চেয়ে শক্তি*শালী মনে করতাম, কিন্তু আজ এগুলো ব*হন করতে অপারগ হয়ে গেছি। এ কথা বলে সবকিছু আবার দায়িত্বশীলকে ফিরিয়ে দিতে চাইলে দায়িত্বশীল বলবে- এখানে প্রদত্ত মাল ফেরৎ নেয়া হয় না। এভাবেই মাহদীর রাজত্ব সাত, আট বা নয় বছর পর্যন্ত থাকবে। মাহ*দীর পর জীবনে আর কোন ক*ল্যাণ থাকবে না…
[আল মুসনাদ]

আ*লী (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- মা*হদী আমার বংশধর। এক রা*ত্রিতে আল্লাহ্‌ পাক তাকে নে*তৃত্বের যোগ্য বানিয়ে দে*বেন।

বু*ঝা গেল ইমাম মাহদী (মুহা*ম্মদ বিন আব্দুল্লাহ) নিজেও জান*বেন না যে, হাদিসে উল্লেখিত ব্যক্তিটি তি*নিই। আগেভাগে গিয়ে খিলা*ফতও কামনা করবেন না। নম্রতা ব*সত নিজেকে তিনি নেতৃত্বের অযোগ্য মনে করবে*ন। আর তাই প্রবল অনিচ্ছা সত্তেও মানুষ জোর করে তা*র হাতে বায়া*আত হয়ে যাবে।

উম্মে সালা*মা (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- মাহ*দী আমার বংশে ফাতেমার সন্তান*দের মধ্যে হবে…[আবু দাউদ]

জা*বের (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- মরিয়ম তনয় ঈসা (আ:) আস*মান হতে অবতরণ করবেন। মুসল*মানদের সেনা প্রধান মাহদী তাকে স্বাগত জানিয়ে ব*লবে- আসুন! নামাযের ইমাম*তি করুন! ঈসা (আ:) বলবেন না! (বরং তুমিই ইমামতি করো!) তো*মাদের একজন অপরজনের নেতা। এই উম্মতের জন্য আল্লাহ্‌*র পক্ষ থেকে এ এক মহা স*ম্মান।

বুঝা গেল মা*হদীর সময়ই দাজ্জালের আবির্ভাব ঘ*টবে। অতঃপর দাজ্জালকে হত্যা করতে আসমান থেকে ঈসা বিন মা*রিয়াম (আ:) আবতরন করবেন। ইমাম মাহ*দীই তখন মুসলিম সেনা প্রধান থাকবেন। ঈসা (আ:) এবং অন্য সকল মুমিন ই*মাম মাহদীর পেছনে ফজ*রের নামায আদায় করবেন।

আবু সাঈদ (রা:) থে*কে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন, মরিয়ম তনয় ঈসা যার পে*ছনে নামায আদায় করবেন, সে আ*মার উম্মতেরই একজন সদস্য।

অর্থাৎ মাহ*দী নামাযে*র ইমামতি করবেন। মুসল্লিদের কাতারে ঈসা (আ:) শামিল থাক*বেন।

জা*বের (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- অ*চিরেই ইরাক বাসীর কাছে খাদ্যদ্রব্য ও রৌ*প্যমুদ্রা সরবরাহের নিষেধাজ্ঞা জারী করা হবে। আমরা বল*লাম- কাদের পক্ষ থেকে এরকম করা হবে? উত্ত*রে বললেন- অনারব। অতঃপর বললেন- অ*চিরেই শাম-বাসীর কাছে খাদ্যদ্রব্য ও স্বর্ণমুদ্রা সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হবে। কা*দের পক্ষ থেকে করা হবে- প্রশ্নের উ*ত্তরে বললেন- রোমান (খৃষ্টান)। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন- আমার শেষ উ*ম্মতের মাঝে একজন খলীফার আবির্ভাব ঘটবে, বে-হিসাব মানুষের মা*ঝে সে সম্পদ বিলি করবে।

জাবে*র বিন ছামুরা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- একদা আলীকে নিয়ে আমি ন*বী করীম (সা:) এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তখন বলছিলেন- পৃথিবী স*মাপ্তির পূর্বে অবশ্যই বারোজন নিষ্ঠাবান খ*লীফা অতিবাহিত হবেন। অতঃপত কি যেন বললেন- ঠিক বুঝিনি! আ*ব্বুকে জিজ্ঞেস করলে- সবাই কু*রায়েশ বংশের বললেন…[মুসলিম]

ইবনে কাছীর (রহ:) বলেন- বুঝা গেল মুসলমান*দের খলীফা হিসেবে বারো*জন নিষ্ঠা পূর্ণ ব্যক্তির আগমন ঘটবে। তবে শিয়া সম্প্রদায়ে*র ধারনা কৃত বারোজন নয়; কারন, তাদের অধিকাংশেরই খেলাফত সং*ক্রান্ত কোন কর্তৃত্ব ছিল না। পক্ষান্তরে প্র*কৃত বারোজন খলীফা সবাই কু*রায়েশ বংশীয় হবেন এবং মুসলমানদের এ*কচ্ছত্র নেতা হিসেবে আভিভূত হবেন…[তাফছীর ইবনে কাছীর]

উম্মুল মুমে*নীন উম্মে সালামা (রা:) থেকে ব*র্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- জনৈক খলীফার মৃত্যুকে কেন্দ্র বিরোধ সৃষ্টি হবে। মদি*নার একজন লোক তখন পালিয়ে ম*ক্কায় চলে আসবে। মক্কার লো*কেরা তাকে খুঁজে বের করে অনিচ্ছা সত্তেও রুকন এবং মাক্কামে ইব*রাহীমের মাঝামাঝি স্থানে বায়াআত গ্রহণ করবে। বায়া*আতের খবর শুনে শামের দিক থেকে এক বিশাল বাহিনী প্রেরিত হবে। মক্কা-মদিনার মাঝা*মাঝি বায়দা প্রান্তরে তাদেরকে মাটির নিচে ধ্বসে দেয়া হবে। বাহি*নী ধ্বসের সংবাদ শুনে শাম ও ইরাকের শ্রেষ্ঠ মুসল*মানগণ মক্কায় এসে রুকন ও মাক্কামে ইব*রাহীমের মাঝা*মাঝি তাঁর হাতে বায়া*আত গ্রহণ করবে। অতঃপর ব*নু কালব সম্বন্ধীয় এক কুরায়*শীর আবির্ভাব হবে। শা*মের দিকে থেকে সে বা*হিনী প্রেরণ করবে। মক্কার নব উত্থিত মুসলিম বাহিনী তাদে*র উপর বিজয়ী হয়ে প্রচুর যুদ্ধলদ্ধ সম্পদ অর্জন করবে। সেদিন বনু কাল*বের সর্বনাশ ঘটবে। যে বনু কালব থেকে অর্জিত স*ম্পদ প্রত্যক্ষ করেনি, সেই প্রকৃত বঞ্চিত। অ*তঃপর মানুষের মাঝে তিনি সম্পদ বণ্টন করবেন। নববী আদর্শের বাস্ত*বায়ন ঘটাবেন। উট যেমন প্রশান্তচিত্তে গলা বিছিয়ে আরাম পায়, দী*র্ঘ প্রতীক্ষার পর ইসলামও সেদিন ভূ-পৃষ্ঠে প্রশান্তচি*ত্তে স্থির পাবে। সাত বৎসর এভাবে রা*জত্ব করে তিনি ইন্তেকাল করবেন, মুসল*মানগণ তার জানায়া*য় শরীক হবে…[আবু দাউদ]

ত্রি*শোর্ধ-জন সাহাবী থেকে মাহ*দী সংক্রান্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। প্রখ্যাত হা*দিস গবেষকগণ শক্তিশালী বর্ণনা-সূত্রে এ*গুলো বর্ণনা করেছেন। আ*হলে সুন্নাত সকল উলামা মা*হদী প্রকাশের বিষয়ে এ*কমত।

Facebook Comments

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button