গল্প-কবিতা

ইস*লামের অতুল*নীয় আদর্শ

ইস*লামের দ্বিতীয় খলিফা হজ*রত উমর রাযি*য়াল্লাহু আনহুর শাসনা*মল। তখন পারস্যের এক প্রদে*শের শাসক ছিলো- হরমুজান নামের এক অত্যা*চারী রাজা। মুসল*মানদের সঙ্গে তার প্রায়ই লড়াই হতো। লড়াইয়ে পরা*জিত হলে তিনি বিভিন্ন শর্তে সন্ধি করতেন এবং নিজের রা*জ্যে ফিরে যেতেন। পরে আবার সু*যোগ পেলেই মুসলমান*দের ক্ষতি সাধন করতেন।

তার এমন অনৈ*তিক নীতির ফলে খলি*ফা হজরত উমর (রা.) আদেশ দিলেন, হরমুজানকে বন্দী করে তার দর*বারে হাজির করতে। ইতোমধ্যে এক যুদ্ধে হরমুজান মুসল*মানদের হাতে বন্দী হয়। খলি*ফার হুকুম মতে তাকে বন্দী অব*স্থায় খলিফার দর*বারে হাজির করা হয়।

তখন খলি*ফা হজরত উমর (রা.) তাকে লক্ষ্য করে বল*লেন, ‘আপনি আমাদের সঙ্গে বার*বার বিশ্বাস*ঘাতকতা করছেন। আপনার বিশ্বাস*ঘাতকতার কারণে আমা*দের বার*বার যুদ্ধ-বিগ্রহে জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে। ফলে অসংখ্য মুস*লিম সৈন্যকে অযথা প্রা*ণ দিতে হচ্ছে। তাদের অর্থ-সম্পদ ন*ষ্ট হচ্ছে।

আপনি অনে*কের ঘর-বাড়ি আপনি ধ্বংস করেছেন। নিরীহ অ*নেক লোকের ওপর অন্যায়*ভাবে অত্যাচার চালি*য়েছেন। আপ*নাকে আর সুযোগ দেওয়া যায় না। আপনার একমাত্র শাস্তি হলো- মৃত্যুদণ্ড। মৃত্যুদণ্ড কার্য*কর করার পূর্বে আপনার কোনো কথা থাকলে বল*তে পারেন।’

হর*মুজান ছিলো খুব সূক্ষ্ম ও কূটবুদ্ধিসম্পন্ন লোক। সুযোগ পেয়ে তিনি এক ফন্দি আঁটেন। তি*নি বললেন, মহা*নুভব খলিফাতুল মুসলিমিন! আমার প্রচণ্ড পি*পাসা পেয়েছে, দয়া করে আমাকে একটু পানি পান করতে দিন।

খলি*ফার নির্দেশে তাকে পানি পান করতে দেওয়া হলো। সুচ*তুর হরমুজান পানির পাত্র হাতে নিয়ে তা পান না করে ভীতু-ভীতু ভাব নিয়ে ডানে-বামে তাকাতে লাগ*লেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কি হলো, আপ*নি পানি পান করছেন না কেন? প্রশ্ন শুনে হর*মুজান জবাব দিলো- আমিরুল মুমি*নিন, আমার ভয় হচ্ছে যে, পানি*টুকু পান করার আগেই আমা*কে হত্যা করা হবে।

তার কথার প্রেক্ষি*তে হজরত উমর (রা.) বললেন, আপনি নির্ভ*য়ে পানি পান করুন। হাতের পানি পান করার পূর্বে আপ*নাকে হত্যা করা হবে না। এ ব্যাপারে আপ*নাকে আমি নিশ্চয়*তা দিলাম।

হর*মুজান আমিরুল মুমি*নিনের এ কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাতে থাকা পানি*র পাত্রটি মা*টিতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বললেন, মহা*মান্য খলিফা! আপনি বলে*ছেন, হাতের পানিটুকু পান করার আগে আমাকে হত্যা কর*বেন না। আমি পানি ফেলে দিয়েছি, সে পানি আর পান কর*বো না। ওয়াদা অনুযায়ী আপ*নিও আমাকে আর হত্যা করতে পার*বেন না।

হর*মুজানের এ চালাকির প্রেক্ষিতে মুস*লিম সৈন্যরা রেগে গিয়ে বলল, আমি*রুল মুমিনিন! আপনি অনুমতি দিন- আমরা এখনই তার এমন অনৈ*তিক চালাকির শাস্তি দেই।

কিন্তু খলিফা হজ*রত উমর (রা.) সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, না তা হতে পারে না। মুসল*মানের কথার মূল্য অনেক। সুত*রাং যে কথা আমি বলে ফেলেছি, যে*কোনো মূল্যে আমি তা রক্ষা কর*বই- ইনশাআল্লাহ।

যেহেতু আমি তাকে বলেছি, তার হাতের পানি*টুকু পান করার পূর্বে তাকে আমি হত্যা করবো না, আর সে যখন পানি পান করে*নি সুতরাং, বন্দী হর*মুজানকে হত্যা করা চলবে না। এ কথা কথা বলে উমর (রা.) হরমুজান*কে লক্ষ্য করে বললেন, যান, আপনি মুক্ত। আ*মার কথার খেলাফ আমি কর*বো না।

সুব*হানাল্লাহ, কথার কি মূল্য। ওয়াদা পাল*নের কি অপূর্ব নজির। হর*মুজান কল্পনাও করতে পারেননি- তিনি এত সহজে মুক্তি লাভ কর*বেন। রাসূলের প্রিয় সহ*চর হজরত উমরের মহানুভবতা দেখে তিনি দারুণ*ভাবে প্রভাবিত হলেন। তিনি ভাবলেন, এই যদি হয় ইস*লামের আদর্শ; তবে এর থেকে দূরে থাকা হবে আমা*র জন্যে চরম দুর্ভাগ্যজনক। ইস*লামের অতুল*নীয় আদর্শে মুগ্ধ হয়ে হর*মুজান ইসলাম গ্রহণ করলেন।

এভা*বেই যুগে যুগে ইসলামের অতুল*নীয় আদর্শে মুগ্ধ হয়ে অসংখ্য মানুষ ইস*লামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। বিশ্বব্যাপী ইস*লাম ছড়িয়েছে আপন মহিমায়। শ*ক্তির জোরে নয়।

Facebook Comments

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button