fbpx
গল্প-কবিতা

এ*খনো সময় আছে, নিজে*কে শুধরে নিন, আল্লাহ*কে ভয় করুন

ই*বনে উমর (রাঃ) বলেন, এক-দুইবার বা পাঁচ-সাত*বার নয় বরং এর চেয়েও বেশীবার আমি রাসূলুল্লাহ সা*ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, বনী ইস*রাইলে কিফল নামে এক ব্যক্তি ছিল। সে কোন গু*নাহের কাজকে ছাড়ত না। একবার এক মহিলা (অভাবে পড়ে) তার কাছে আ*সলে, সে ব্যভিচারের শর্তে তাকে ষাট দি*নার (স্বর্ণমুদ্রা) দেয়। যখন সে ঐ ম*হিলার সাথে বদকাজ করতে উদ্যত হলো, ত*খন মহিলাটি (আল্লাহর ভয়ে) প্র*কম্পিত হয়ে কেঁদে ফে…লল। লোকটি বললঃ কাঁদছ কেন? আ*মি কি তোমাকে যবরদস্তী করেছি?

মহিলাটি বললঃ না, আমি এ গো*নাহের কাজ কখনো করিনি। আজ কেবল অ*ভাবের তাড়নায় পড়ে এতে বাধ্য হচ্ছি। লোকটি বললঃ অ*ভাবের তাড়*নায় পড়েই তুমি এসেছ অথচ কখনো তা করনি!? যাও তোমাকে ছেড়ে দি*লাম। দিনারগুলোও তোমারই। সে আরো বললঃ আল্লাহর কসম! এর*পর আর কখনো আমি আল্লাহর নাফর*মানী করব না।

পরে এ রাতেই কিফল মারা যায়। স*কালে তার ঘরের দরজায় লেখা ছিলঃ “আ*ল্লাহ্‌ তা’আলা কিফলকে মাফ করে দি*য়েছেন।”

{ জামে তিরমিযি,হাদিস নং- ২৪৯৮, মুসনাদে আহমাদ,হাদিস নং- ৪৭৪৭}

আরেকটি হাদীসঃ

আল্লা*হ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা*মের এক*জন সাহাবা, নাম থা’লাবা (Tha’laba, বাংলা*য় অনেক সময় সা*লাবা বলা হয়)। মাত্র ষো*ল বছর বয়স। রাসূল (সা) এর জন্য বার্তাবাহক হিসেবে এখানে সেখানে ছু*টোছুটি করে বেড়াতেন তিনি। একদিন উনি ম*দীনার পথ ধরে চলছেন, এমন সময় একটা বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যা*ওয়ার সময় তাঁর চোখ পড়ল দ*রজা খুলে থাকা এক ঘরের মধ্যে। ভিতরে গোসলখানায় একজন মহিলা গো*সলরত ছিলেন, এবং বাতাসে সেখানের পর্দা উড়*ছিল, তাই থা’লাবার চোখ ঐ মহি*লার উপর যেয়ে পড়ল। সঙ্গে স*ঙ্গে উনি দৃষ্টি নামিয়ে নিলেন।

কিন্তু থা*লাবার মন এক গভী*র অপরাধবোধে ভরে গে*ল। প্রচন্ড দুঃখ তাকে আ*চ্ছাদন করল। তার নিজেকে মু*নাফিক্বের মত লাগছিল। তি*নি ভাবলেন, ‘কি*ভাবে আমি রাসূল (সা) এর সাহাবা হয়ে এ*তোটা অপ্রীতিকর কাজ করতে পারি?! মা*নুষের গোপনীয়তাকে নষ্ট করতে পারি? যে*ই আমি কিনা রাসূল (সা) এর বার্তা বাহক হি*সেবে কাজ করি, কে*মন করে এই ভীষণ আপ*ত্তিজনক আচরণ তার পক্ষে সম্ভব?’ তাঁর মন আ*ল্লাহর ভয়ে কাতর হয়ে গেল। তিনি ভাবলেন, ‘না জানি আল্লা*হ সুবহানা*হু ওয়া তা’আলা আমার এ*মন আচরণে*র কথা রাসূল সা এর কাছে প্রকাশ করে দেয়!’ ভয়ে, রাসূ*ল (সা) এর মুখোমুখি হওয়ার ল*জ্জায়, তিনি তৎক্ষণাৎ ঐ স্থান থেকে পা*লিয়ে গেলেন।

এ*ভাবে অনেকদি*ন চলে গেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়ালাই*হি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য সাহাবাদে*র কে থা’লাবার কথা জিজ্ঞেস করতেই থাক*তেন। কিন্তু সবাই জানাল কে*উ-ই থা’লাবা কে দেখেনি। এ*দিকে রাসূল সা এর দুশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়ছিল। তি*নি উমর (রা), সালমান আল ফা*রিসি সহ আরো কিছু সাহা*বাদের পাঠালেন থা’লাবার খোঁজ আ*নার জন্য। মদীনা তন্ন তন্ন করে খুঁ*জেও থা’লাবার দেখা মিলল না। পরে মদীনা*র একেবারে সী*মানাবর্তী একটা স্থানে, ম*ক্কা ও মদীনার মধ্যখানে অবস্থিত প*র্বতময় একটা জায়গা*য় পৌঁছে কিছু বেদুঈনে*র সাথে দেখা হল তাদের। দেখানে এসে তারা থা’লা*বার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে শুরু করলেন। ‘তো*মরা কি লম্বা, তরুণ, কম বয়সী একটা ছেলেকে এ*দিকে আসতে দেখেছ?’

বে*দুঈনগুলো মেষ চড়াচ্ছিল। তারা জবাব দি*ল, সে খবর তারা জানেনা, তবে তারা জি*জ্ঞেস করল, ‘তোমরা কি ক্র*ন্দনরত বালকের সন্ধানে এসেছ?’ এ*কথা শুনে সাহাবীরা আগ্রহী হয়ে উঠ*লেন এবং তার বর্ণনা জান*তে চাইলেন। উত্তরে ওরা বলল, ‘আম*রা প্রতিদিন দেখি মাগরিবের স*ময় এখানে একটা ছেলে আসে, সে দেখতে এ*তো লম্বা, কিন্তু খুব দুর্বল, সে শুধু*ই কাঁদতে থাকে। আমরা তা*কে খাওয়ার জন্য এক বাটি দুধ দেই, সে দু*ধের বাটিতে চুমুক দেয়ার সময় তার চো*খের পানি টপটপ করে পড়ে মিশে যায় দুধের সা*থে, কিন্তু সেদিকে তার হুঁশ থাকে*না!’ তারা জা*নালো চল্লিশ দিন যাবৎ ছেলেটা এখানে আছে। এ*কটা পর্বতের গুহার মধ্যে সে থা*কে, দিনে এক*বারই সে নেমে আসে, কাঁদ*তে কাঁদতে; আবার কাঁদতে কাঁদ*তে, আল্লাহর কাছে সর্বদা ক্ষমা প্রা*র্থনা করতে করতে উ*পরে চলে যায়।

সাহা*বারা বর্ণনা শুনেই বুঝলেন, এ থা*লাবা না হয়ে আ*র যায় না।

ত*বে তাঁরা উ*পরে যেয়ে থা*লাবা ভড়কে দিতে চা*চ্ছিলেন না, এজন্য নি*চেই অপেক্ষা করতে লাগ*লেন।

যথা*সময়ে প্রতিদিনে*র মত আজও থা’লাবা ক্রন্দনর*ত অবস্থায় নেমে আসলেন, তাঁর আর কোন*দিকে খেয়াল নাই। কী দুর্বল শ*রীর হয়ে গেছে তাঁর! বে*দুঈনদের কথামত তাঁরা দেখতে পেলেন, থা*লাবা দুধের বাটি*তে হাতে কাঁদছে, আর তাঁর অশ্রু মিশে একা*কার হয়ে যাচ্ছে। তাঁর চেহারায় গ*ভীর বিষাদের চিহ্ন স্পষ্টভাবে প্র*কাশ পাচ্ছে।

সাহাবা*রা তাকে বললেন, ‘আ*মাদের সাথে ফিরে চল’; অথচ থা’লাবা যেতে রাজি হ*চ্ছিলেন না। তিনি বার*বার সাহাবাদেরকে জিজ্ঞেস করতে লাগ*লেন, ‘আল্লাহ কি আ*মার মুনাফেক্বী বি*ষয়ক কোন সূরা নাযিল করেছে?’

সাহাবারা উত্তরে বল*লেন, ‘না আমাদে*র জানাম*তে এমন কোন আয়াত না*যিল হয় নাই।’

উমর (রা) বল*লেন, রাসূল (সা) আমাদের*কে তোমা*কে নিয়ে যাও*য়ার জন্য পাঠি*য়েছেন। তুমি যদি এখন যেতে রা*জি না হও, তাহলে তোমা*কে আমরা জোর করে ধ*রে নিয়ে যাব। রাসূল (সা) এর কথা অমান্য কর*বেন এমন কোন সাহাবা ছিল না*হ। কিন্তু থা’লাবা এতোটা*ই লজ্জিত ছিলেন যে ফিরে যেতে চাচ্ছিলে*ন নাহ। এরপর সাহা*বারা তাকে রাসূল (সা) এর কাছে মদীনা*য় নিয়ে আসেন।

মহান*বী (সা) এর কাছে এসে থা’লাবা আবারও একই প্রশ্ন করে, ‘আ*ল্লাহ কি আমাকে মুনাফিক্বদের ম*ধ্যে অন্তর্গত করেছেন অথবা এমন কোন আয়া*ত নাযিল করেছেন যেখানে বলা আমি মু*নাফিক্ব?’ রাসূল (সা) তাকে নি*শ্চিত করলেন যে এমন কিছুই নাযিল হয়নি। তি*নি থা’লাবার দুর্বল পরি*শ্রান্ত মাথাটা নিজের কোলের উপর রাখলেন। থা*লাবা কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠ*লেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, এমন গুনাহগার ব্যক্তি*র মাথা আপনার কোল থেকে সরিয়ে দি*ন।’ উনার কাছে মনে হচ্ছিল যেন সে এ*সব স্নেহের যোগ্য নাহ।

রাসূল সাল্লাল্লা*হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা*কে সান্ত্বনা দিতেই থাক*লেন। আল্লাহর রহমত আর দ*য়ার উপর ভরসা করতে বললেন। আ*ল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই*তে বললেন। এ*মন সময় থা’লাবা বল*লেন,

‘হে আল্লাহ*র রাসূল আমার এমন মনে হচ্ছে যে*ন আমার হাড় আর মাংসের মাঝখানে পিঁপ*ড়া হেঁটে বেড়াচ্ছে।’

রাসূল (সা) বল*লেন, ‘ওটা হল মৃত্যুর ফেরেশতা। তোমার সময় এসে*ছে থা’লাবা, শাহাদাহ পড়’।

থা’লাবা শাহা*দাহ বলতে থাকলেন, ‘আল্লাহ ছা*ড়া ইবাদাতের যোগ্য আর কোন ইলাহ নে*ই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া*সাল্লাম আল্লাহর রা*সূল’

উ*নি শাহাদাহ বলতে থাক*লেন… বলতেই থাকলেন… এমন*ভাবে তাঁর রুহ শ*রীর থেকে বের হয়ে গেল।

মহান*বী (সা) থা’লাবা*কে গোসল করিয়ে জানা*জার পর কবর দিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আ*রো অনেক সাহাবা থা*লাবাকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছি*লেন। মহানবী (সা) পা টিপে টিপে অনে*ক সাবধানে এগিয়ে যাচ্ছি*লেন। উমর রাদি*য়ালাহু আনহু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহ*র রাসূল, আপনি এভাবে কেন হাঁট*ছেন যেন ভিড়ের মাঝে হেঁটে চলেছেন.. কতো রাস্তা ফাঁ*কা পরে আছে, আ*পনি আরাম করে কেন চল*ছেন না ইয়া রাসুল?’

উত্ত*রে রাসূল (সা) বললেন, ‘হে উমর, আমা*কে অনেক সাব*ধানে চলতে হচ্ছে। সমস্ত রাস্তা ফেরে*শতাদের দ্বারা ভরে গেছে । থা*লাবার জন্য এতো ফে*রেশতা এসেছে যে আমি ঠিক*মত হাঁটার জায়গা পাচ্ছি না’।

সুবহান আল্লাহ !

এ*ই সেই থা’লা*বা যে ভুলক্রমে একটা ভুল করার জন্য এতো প্রায়*শ্চিত্য করেছেন। গুনাহ-র কাজ করা তো দূরের কথা, গু*নাহ না করেও আল্লাহর কাছে ক্ষ*মা চেয়ে চেয়ে ব্যাকুল হয়েছেন। ক*ত উঁচু ছিলেন তিনি আল্লাহর চোখে যে তাকে নেয়ার জন্য ফেরেশতা*দের আগমনে রাস্তা ভরে গিয়ে*ছিল! এই সব ফেরেশ*তারা নেমে এ*সেছে শুধু থা’লাবার জন্য, তাঁর জন্য দু*আ করার জন্য, তাকে নিয়ে যাবার জন্য। আর আ*মরা সারাদিন জেনে না জেনে এতো ভুল করেও, এতো গু*নাহ করেও অনুশোচনা করি না! উ*লটা আমাদের পছন্দ মত কিছু না হলেই আল্লাহর আ*দেশের উপর অসন্তোষ প্র*কাশ করতে থাকি, জীবন নিয়ে না*লিশ করতে থাকি।

এক*টা হাদীস আছে, ‘মু’মিন বা*ন্দার কাছে তার গুনাহগুলো এ*মন যেন এখনই পাহাড় ভেঙ্গে তার মাথার উপর প*ড়বে; আর একজন দুর্বৃত্তকারীর কা*ছে গুনাহ এরকম যে মা*ছি এসে তার না*কের উপর উড়াউড়ি করছে, আর সে হাত না*ড়িয়ে সেটা সরিয়ে দিল’।

[বুখারি, বইঃ৭৫, হাদীস নং ৩২০]

আ*মরা আমাদের গুনাহগুলোকে দেখেও না দেখার ভান করি। স্বী*কার করতে চাইনা। কতো রকম যুক্তি দিয়ে জাস্টি*ফাই করার চেষ্টা করি। একটু ফ্যাশন, শখ, ম*নের ইচ্ছা পূরণ, মা*নুষের সামনে বড় হওয়া, যুগের সা*থে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আমরা গুনাহ-র কা*জে জড়িয়ে পরি। কিন্তু আল্লাহর কাছে বিনয়ের সাথে ক্ষ*মা চাওয়ার কথা ভাবতে পা*রিনা। আ*মাদের যুক্তি, অহংকার, শয়*তানের মতই আমাদেরকে ক্ষমা প্রার্থনা থেকে বিরত রাখে। কিয়া*মতের দিন এক আল্লাহর রহমত আর দয়া ছাড়া কি*ছুই আমাদেরকে আগুন থেকে বাঁচাতে পারবে না। জা*ন্নাত তাদের জন্যই যারা আল্লাহর কাছে মা*থা নত করে। আত্মসমর্পণ করে পূর্ণভাবে। নি*জের ইচ্ছা, অহম বোধের কাছে মাথা নত করেনা। তাই ঈ*মানদার ব্যক্তিই বিনয়ী। তার র*বের সামনে কাঁদতে সে লজ্জা পায় না। ভু*লের জন্য ক্ষমা চাইতে কুন্ঠাবোধ করে না। সত*তার সাথে ক্ষমা চেয়ে দৃড়*ভাবে সেই কাজ থেকে বিরত থাকে।

আল্লা*হ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ব*লেন, ‘যে তওবা করে এবং ঈমান আ*নে ও পুণ্য-পবিত্র ক্রিয়াকর্ম করে। সুতরাং তারাই, — আ*ল্লাহ্ তাদের মন্দকাজকে সৎকা*জ দিয়ে বদলে দেবেন। আর আল্লাহ্ সতত পরিত্রাণ*কারী, অফুরন্ত ফলদাতা’।

[সূরাহ ফুরক্বানঃ ৭০]

আল্লাহ আমা*দেরকে আমাদের জেনে না জেনে করা গু*নাহগুলো থেকে ক্ষমা করে দিক ! আমাদেরকে স*ঠিকভাবে মনের অন্তঃস্থল থেকে অনুতাপ করার, ক্ষ*মা চাওয়ার সুযোগ দান করুক। আমাদের*কে নিজেদের ভুল বুঝার আর স্বীকা*র করে নিয়ে খারাপ কাজ*গুলো থেকে দূরে থাকার তও*ফিক দিক… আমীন।

Facebook Comments

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button