fbpx
আন্তর্জাতিকপরিবেশ ও জীববৈচিত্রবাংলাদেশসমগ্র খুলনাসমগ্র চট্টগ্রামসমগ্র ঢাকাসমগ্র বরিশালসমগ্র ময়মনসিংহসমগ্র রংপুরসমগ্র রাজশাহীসমগ্র সিলেটস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Trending

করোনা’র ভ্যাকসি’নে অনেকে’র আস্থা নেই

করোনা ভাইরা’সের ভ্যাক’সিন তৈরিতে বিশ্বের না’না দেশ কাজ করে যাচ্ছে। শতা’ধিক ভ্যাকসিন বর্তমানে পরীক্ষা–নিরী’ক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যেই রাশিয়া দাবি ক’রেছে, তাঁরা সর্বপ্রথম করোনার ভ্যাকসিন তৈ’রি করেছে। রাশিয়ার তৈরি করোনার টি’কা তৈরিতে চিকিৎসা’বিজ্ঞানের নৈতিকতার ‘গুরুতর লঙ্ঘনের’ অভিযোগ এনে ইতিমধ্যে দেশটির এক শীর্ষ চিকিৎ’সা কর্মকর্তা পদত্যাগও করেছেন।

এসব কার’ণসহ আরও নানা কারণে বিশ্বের অসংখ্য মানুষ করো’নার ভ্যাকসিনের ওপর আ’স্থা পাচ্ছেন না। তাই বাজারে আ’সলেও এই ভ্যাকসিন নি’তে রাজি নন অনেকে। ১৫ আগস্ট সিএ’নএন-এর এক প্রতিবেদনে এমন ক’থাই বলা হয়েছে।

ফ্লোরি’ডার ৫৭ বছর বয়সী সাবেক নার্স সুজান বেইলি প্র’তি বছর ফ্লুতে আক্রান্ত হন। তবুও তিনি ক’রোনার ভ্যাকসিন নিতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘আমি ভ্যাকসি’নের বিরোধী নই। আমার শরীরের অবস্থাও খুব এক’টা ভালো না। তারপরও আমি অনে’ক দিন পর্যন্ত দেখতে চাই, এই ভ্যাকসিনের কী কী ক্ষ’তিকর দিক থাকতে পারে।’

সুজান বলেন, তিনি মা’র্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বি’শ্বাস করেন না। বিশ্বের সেরা বি’জ্ঞানীরা মাত্র ছয় মাসেই করো’নার ভ্যাকসিন তৈরি করে তা নি’তে বলবে, তা হয় না। এটা অনেক তড়িঘড়ি মনে হয়। পরী’ক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অন্তত ১৮ মাস সম’য় নেওয়া উচিত।

প্রতি’বেদনে বলা হয়, আমেরি’কার শুধু সুজান বেইলি ন’ন, সারা বিশ্বে অসংখ্য মানুষ করোনার ভ্যা’কসিন নিয়ে এখন এমন সন্দেহ পোষণ করছেন। তাঁরা এত তড়িঘড়ি তৈরি করা ভ্যাকসিন নিতে নারাজ।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সি’টির পদার্থবিদ নিল জনসন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে করোনার ভ্যাক’সিন নিয়ে মানুষের সংশয় পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের মধ্যে চার ধর’নের সংশয় রয়েছে। এগুলো হলো—নিরাপদ কিনা; আ’সলে ভ্যাকসিনের দরকার আছে কিনা, থাকলে কখন; ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির প্রতি আস্থা এবং অনিশ্চয়তা। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি ১০ জনকে জিজ্ঞাসা করেন করো’নার ভ্যাকসিন নেবেন কিনা, আর ১০ জনই যদি রা’জি থাকেন—তাহলে আমি বিস্মিত হব।’

বিজ্ঞা’নীরা বলছেন, সংক্রামক রোগের বি’রুদ্ধে লড়াই করতে ভ্যাকসিনের কো’নো বিকল্প নেই। এই ভ্যাকসিনই প্রতি বছ’র ৬০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা ক’রছে। আমেরিকার সংক্রামক রোগ’বিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি বলেছেন, একমাত্র ভ্যাক’সিনই এই করোনা মহামারি ঠেকাতে পারে। এ ছাড়া ল্যা’নসেট মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক গবে’ষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একমাত্র ভ্যাক’সিনই পারে এই লকডাউন ব্যব’স্থার অবসান ঘটাতে।

অ্যাসো’সিয়েট প্রেস/এনওআরসি সেন্টার ফ’র পাবলিক অ্যাফে’য়ার্স গত মে মাস থেকে অনলা’ইনে ভ্যাকসিন সংক্রান্ত এক’টি জরিপ করেছে। জরিপে ব’লা হয়েছে, আমেরিকার অর্ধেক মানুষ করো’নার ভ্যাকসিন নেবে কি নেবে না-তা নি’য়ে দ্বিধায় আছে। গত সপ্তাহে যুক্ত’রাজ্যে কিংস কলেজ লন্ডনও এ সংক্রান্ত এক গবে’ষণায় একই ধরনের ফল পে’য়েছে।

গত মে মাস থেকে সিএ’নএন এ নিয়ে একটি জরিপ চালিয়েছে। সেখা’নে দেখা গেছে, যদি কম দামে করোনার কোনো ভ্যা’কসিন সহজলভ্য হয়, তাহলে আমেরিকার প্রায় দুই-তৃতীয়াং’শ মানুষ তা নেওয়ার পক্ষে মত দি’য়েছে।

সিটি ইউনিভা’র্সিটি অব নিউইয়র্ক স্কুল অব পাবলিক হেল’থের কনভিনস অ্যান্ড ডিস্টিনগুইসড লেক’চারারের কো-লিডার স্কট রাট’জান বলেন, এক জরিপে দে’খা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ ব্রি’টিশ ও আমেরিকান একটি ভ্যাক’সিন নেওয়ার পক্ষে।

প্রতি’বেদনে বলা হয়, ভ্যাকসিনের প্রধান লক্ষ্য হলো হার্ড ইমি’উনিটি সৃষ্টি করা। এর অর্থ হলো, বিপুল’সংখ্যক মানুষের এই ভাইরাসবি’রোধী ইমিউ’নিটি থাকতে হবে। গত জুনে অ্যান্থনি ফাউ’সি বলেছিলেন, ভাইরাসের বিরুদ্ধে একটি ভ্যাক’সিন কেবল ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কাজ করবে। তবে দুই-তৃতীয়াং’শ মানুষ ভ্যাক’সিন নিলেই হার্ড ইমি’উনিটি সৃষ্টি হয়ে যাবে।

গত জুনে ইউনি’ভার্সিটি অব হামবুর্গের প্রকাশিত এক গবে’ষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউ’রোপ ও আমেরিকার ৭১ থেকে ৭৪ শ’তাংশ মানুষ ভ্যাকসিন নি’তে আগ্রহী। তবে এখন ফ্রান্স, জার্মা’নি ও নেদারল্যান্ডসে মানু’ষের সেই আগ্রহ নেই।

প্রতিবেদ’নে আরও বলা হয়, ইউরোপ ও আমেরিকায় করো’নার ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের সংশয় বা’ড়ছে। ব্রাজিলে ব্রিটিশ, চীন ও মা’র্কিন কোম্পানিগুলো ভ্যাকসি’নের পরীক্ষা চালাচ্ছে। সেখানে সামাজিক যোগাযো’গের মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে। দক্ষি’ণ আফ্রিকায়ও ভ্যাকসিনের ট্রা’য়ালের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়ে’ছে।

গত এপ্রিলে দ্য ল্যানসেটের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে এইচপিভি ভ্যাকসিন নেওয়ার সুপারিশ বন্ধ করে জাপান। আর এ কারণেই দেশটিতে প্রায় ১১ হাজার মানুষের প্রতিরোধযোগ্য জরায়ু ক্যানসারে মৃত্যু হয়েছে।

২০১৬ সালে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যা’ন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ভ্যাকসিন কনফি’ডেন্স প্রজেক্টের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩ শতাংশ ইন্দোনেশিয়ান ভাবে, ভ্যাকসিন নিরাপদ নয়। তবে গত জানুয়ারিতে একটি আঞ্চলিক জরিপে দেখা গেছে, ১৫ শতাংশ অভিভাবক সন্তানদের জিকা ভাইরাসের ভ্যাক’সিন দিতে নারাজ। পাদজাদজারান ইউনিভার্সিটির ফার্মা’কোলজির অধ্যাপক আলিয়া সুয়ান্তিকা এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি হ্রাস পেয়েছে।

গত মে মাসে ল্যানসেট ও ফ্রান্স রি’সার্চ কনসোর্টিয়াম কোকোনেল যৌথভাবে ভ্যা’কসিনে সংশয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ ক’রে। এর গবেষক জেরেমি ওয়ার্ড বলে’ন, সংশয়টা মূলত তড়িঘড়ি’র কারণে। এই সংশয়ের কারণে ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু মহা’মারির সময় মাত্র ৮ শতাংশ মানুষ ভ্যা’কসিন নিতে রাজি ছিল।

ফ্রান্সে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লকডা’উনের সময় দেখা গেছে, মোট জনসংখ্যার এক চতু’র্থাংশ ভ্যাকসিন নিতে অস্বীকৃতি জানি’য়েছে, যা এখনো আছে। জেরেমি ওয়া’র্ড আরও বলেন, ‘এর প্রধান কারণ হলো প্রতিষ্ঠা’নের প্রতি মানুষের আস্থার জায়গা। এ ছাড়া ফ্রান্সে ক’রোনাভাইরাস বিতর্কটা চরমভাবে রাজনৈতিক। এখানে ভোটের রাজনীতির সঙ্গে করোনার ভ্যাক’সিন নেওয়া না নেওয়া নির্ভর করছে।

রাশি’য়া দাবি করেছে, তাঁরা সর্বপ্রথম করোনার ভ্যাক’সিন তৈরি করেছে। রাশিয়ার তৈরি করো’নার টিকা তৈরিতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নৈতিকতার ‘গুরুতর লঙ্ঘ’নের’ অভিযোগ এনে দেশটির শীর্ষ চি’কিৎসা কর্মকর্তা আ’লেক্সান্ডার চুচালিন পদ’ত্যাগও করেছেন। এ প্রস’ঙ্গে স্কট রাটজান বলেন, রাশি’য়ায় অন্য দেশের চেয়েও ভ্যাকসিন নিতে না চাওয়া মা’নুষের সংখ্যা আরও অনেক বেশি থাকতে পারে।

প্রতিবে’দনে বলা হয়েছে, নানা গবেষ’ণায় দেখা গেছে, আমেরিকায় কৃ’ষ্ণাঙ্গ ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে করোনার ভ্যাক’সিন না নেওয়ার মানসিকতা বেশি। যদি’ও তারাই বেশি সংক্রমিত হয়ে’ছে। নর্থ ইস্টার্ন, হার্ভার্ড, রাট’গার্স ও নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনি’ভার্সিটির জরিপে দেখা গেছে, জরি’পে অংশগ্রহণকা’রীদের মধ্যে ৫২ শতাংশ আফ্রিকান-আমেরিকান ভ্যাক’সিন চান। অন্যদিকে ৬৭ শতাংশ শ্বে’তাঙ্গ এই ভ্যাকসিন নিতে চান।

বিশ্ব স্বা’স্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হেলথ ইমার’জেন্সিস প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচা’লক মাইক রায়ান বলেন, মানুষকে ভ্যা’কসিন সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও কথা বল’তে দেওয়া উচিত। এর পরেই মানুষ আসলে স’ঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

Facebook Comments

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button