fbpx
পরিবেশ ও জীববৈচিত্রবাংলাদেশসমগ্র ঢাকা
Trending

টোলা*রবাগ-পূর্ব রাজাবাজা*রের পর লকডা*উনে সাফল্য ওয়ারী*তেও

রাজধা*নীর টোলারবাগ ও পূর্ব রা*জাবাজারে সফল*তার পর ‘রেড জোন’ ওয়া*রী লকডাউন করে সংক্র*মণ কমানো গেছে। জনস্বা*স্থ্যবিদেরা বল*ছেন, তিন জায়গা*তেই সরকা*রের তৎপরতা*র সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সম্পৃ*ক্ততা এ সফলতার মূলে কা*জ করেছে। ওয়ারী*সহ তিন লকডা*উনে নেতৃত্ব দিয়েছে সর*কারের রোগতত্ত্ব, রোগনির্ণয় গবে*ষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডি*সিআর)।

কোর*বানির ঈদের আগে অন্তত রাজ*ধানীতে কোনো এলাকা*য় লকডাউ*নের সম্ভাবনা কম। তবে ঈ*দের পর সংক্রমণ বাড়*তে পারে। তখন রাজ*ধানীতে এলাকা*ভিত্তিক লকডাউ*নের দরকার আছে ব*লে মনে করছেন জন*স্বাস্থ্যবিদেরা। এই তিন জায়গা*র মডেল ব্যবহা*র করে ঈদের প*রপরই এলাকা নির্ধারণ করা দরকা*র বলেও মনে করেন তাঁরা।

৪ জু*লাই থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপো*রেশনের ওয়ারী এলাকায় লক*ডাউন শুরু হয়। ওই দিন ভোর ছ*য়টা থেকে ওয়ারীর টিপু সুল*তান রোড, যো*গীনগর রোড ও ঢাকা-সিলেট মহা*সড়ক (জয়*কালী মন্দির থেকে বলধা গা*র্ডেন), লার*মিনি স্ট্রিট, হেয়ার স্ট্রি*ট, ওয়্যার স্ট্রিট, র‌্যাং*কিন স্ট্রিট ও নবাব স্ট্রিট লকডা*উনে শুরু হয়। শেষ হয় গত শু*ক্রবার রাত ১২টায়। ওয়া*রীর এই এলাকা দক্ষি*ণ সিটির ৪১ নম্বর ওয়া*র্ডে পড়েছে।

Lifeb*uoy Soap
আইই*ডিসিআর সূত্র জানায়, এবার ওয়া*রীর লকডাউ*নের সময় ৩১৬ জনের নমুনা সংগ্র*হ করা হয়। এই ৩১৬ জনের ম*ধ্যে ২৮৯ ল*কডাউন এলাকার। বাকি ২৭ জন ভি*ন্ন এলাকা থেকে এসে নমুনা দিয়েছিলে*ন। লক*ডাউন এলাকার ম*ধ্যে যে ২৮৯ জনের নমু*না নেওয়া হয়। তাঁ*দের মধ্যে ৯৫ জনের নমুনা পজি*টিভ আসে।

লক*ডাউন এলা*কায় প্রথম সপ্তাহে ১০৫ জন নির্দি*ষ্ট স্থানে এসে নমুনা দেন। দ্বিতীয় সপ্তা*হে নমুনা দেন ৮০ জন। তৃতী*য় সপ্তা*হে দেন ১০৪ জন।

আইই*ডিসিআরের পরিচা*লক মীরজাদী সে*ব্রিনা বলেন, ‘তৃতীয় স*প্তাহে গিয়ে আমরা বাড়ি বাড়ি গি*য়ে কেস খুঁজে বের ক*রে নিয়ে এসেছি। প্রথম সপ্তা*হে ৪২ জন পজি*টিভ হয়েছিল, দ্বিতীয় সপ্তা*হে ২৪ জন এবং তৃতীয় সপ্তা*হে ২৯ জন পজি*টিভ হয়েছে। বাড়ি বা*ড়ি গিয়ে খোঁজার জন্যই শনা*ক্ত বেড়েছে।’

তৃতীয় সপ্তা*হে যে ২৯ জন শনাক্ত হয়ে*ছিলেন, তা করা হয়েছে স*প্তাহের প্রথম দিকে। সপ্তাহের শেষ দিকে পজি*টিভ হওয়ার সংখ্যা কমে এসেছে।

মীরজা*দী সেব্রিনা বলেন, ‘এখন আম*রা দেখছি ওয়ারীতে কেস অ*নেক কমে গেছে। কোনো দিন নেই, কো*নো দিন দুইটা-তিনটা। অথচ ওই এলা*কায় প্রচুর কেস ছিল। সেদিক থে*কে বলা যায়, ওয়ারীতে ঘরে ঘরে গিয়ে স*ন্ধান ভালো কাজ করেছে।’

মহা*মারি বিশেষ*জ্ঞদের মতে, লকডাউন হওয়া কোনো এলা*কার প্রথম দিকের চেয়ে শেষ দি*কের নমুনার হার মেলাতে হবে। তাহ*লেই সেই এলা*কার উন্নতি হচ্ছে কি না, তা বো*ঝা যাবে।

মহা*মারি বিশেষজ্ঞ, আইইডি*সিআরের উপদেষ্টা মুশতা*ক হোসেন বলেন, লকডা*উন হওয়া ওয়ারীর প্রথম ১৪ দিনে*র সঙ্গে শেষ ১৪ দিনের হি*সাব মিলিয়ে দেখা গেছে, এখানে সং*ক্রমণ কমেছে। এর মধ্যে সা*ত দিন ওভারল্যাপ হিসে*বে ধরতে হবে। সংক্রম*ণ কমে যাওয়ায় রেড থে*কে ইয়েলো বা হলুদ জোনে এসেছে ও*য়ারী।

আইই*ডিসিআর সূত্র জানায়, ওয়া*রীতে প্রথম সপ্তাহে পজিটিভ ছিল ৪০ শতাংশ। দ্বিতী*য় সপ্তাহে পজিটিভ হওয়ার রে*ট ছিল ৩০ শতাংশ। তৃতীয় স*প্তাহে ২৮ শতাংশ।

এ*খন লকডাউন উঠে গেলেও ওয়া*রীতে নমুনা সংগ্রহের বুথ আছে। যেসব বাড়ি*তে রোগী আছেন, সেগু*লো যাতে নজরদা*রিতে থাকে সে বিষয়ে ব্যব*স্থা নেওয়া হয়েছে।

রাজধা*নীতে প্রথম লকডা*উন করা হয় ২৩ মার্চ। ওই দি*ন থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরে*শনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের টো*লারবাগ এলাকা*য়। ২১ ও ২২ মার্চ পরপর দু*জন করোনা*য় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। রাজ*ধানীর বেশি সংক্র*মিত এলাকা*র মধ্যে একটি ছিল এই টো*লারবাগ। এই তিন হা*জার জনসংখ্যা*র এলাকায় আক্রান্ত ছিলেন ১৭ জন। ১০ এ*প্রিলের মধ্যে সবা*ই সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ওয়া*রীতে যেমন শেষ সপ্তাহে ঘরে ঘ*রে গিয়ে কেস খুঁজে বের করা হয়ে*ছে, টোলারবা*গেও সেটা করা হ*য়েছিল। সেখানে স্থানী*য় ১২ নম্বর ওয়া*র্ড কমিশ*নার মুরাদ হোসেনের নে*তৃত্বে একটি দল কাজ করে।
মু*রাদ হোসেন সো*মবার বলেন, ‘এলা*কার মানুষের সার্বিক সহযো*গিতায় টোলারবা*গে সাফল্য এসেছিল। এখন লকডা*উন উঠে যাওয়ার এত দিন পরেও প*রিস্থিতি নি*য়ন্ত্রণে আছে।’

টোলা*রবাগে বাড়তি কিছু কাজ করা হয়ে*ছিল। সেগুলো হলো, যাঁরা রোগী*দের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁর উ*পসর্গ থাকুক আর না থাকুক, তাঁদের পরী*ক্ষা করা হয়েছিল। বয়স্ক ব্যক্তি, যাঁ*দের কোমর্বিডিটি আছে, তাঁ*দের নমুনা নিয়ে পরী*ক্ষা করা হয়েছিল।

মীর*জাদী সে*ব্রিনা বলেন, সেখানে এমন কা*জ করা হয়েছিল যে টোলা*রবাগের আক্রান্ত ব্যক্তি শরীয়*তপুরে গিয়ে পাওয়া গিয়েছিল।

ঢা*কা উত্তর সিটির আরেক এ*লাকা পূর্ব রাজাবা*জারে থাকে প্রায় ৫০ হাজার মানু*ষ। একপর্যা*য়ে এখানে ব্যা*পক সংক্রম*ণ শুরু হয়। এর পরিপ্রে*ক্ষিতে ৯ জুন মধ্য*রাত থেকে এই রেড জোন এলাকায় লকডা*উন শুরু হয়। শেষ হয় ৩০ জুন। ওই দি*ন এলাকায় লকডা*উনের ২১ দিন পূর্ণ হয়। আইই*ডিসিআর এই লক*ডাউন–ব্যবস্থা দেখভাল করে। আর ব্যবস্থা*পনার দায়িত্বে ছিল ওয়ার্ড কাউ*ন্সিলর কার্যা*লয়।

পূর্ব রাজাবা*জার উত্তর সিটির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে*র মধ্যে পড়েছে। ওয়ার্ড কাউ*ন্সিলর ফরিদুর রহ*মান খান বলেন, এ এলা*কায় প্রথমে ৩২ জন সংক্র*মিত ছিলেন। তিন সপ্তাহের মধ্যে সব মিলি*য়ে ৬০ জন শনাক্ত হন। তাঁ*দের মধ্যে দ্বিতীয় স*প্তাহের মধ্যেই ৪৫ জন সু*স্থ হয়ে ওঠেন। পরে আ*রও ৯ জন সুস্থ হন। বাকি ৬ জ*ন ২১ দিনর মধ্যে সু*স্থ না হলেও পরে সু*স্থ হয়ে যান।

টো*লারবাগ, পূর্ব রাজাবা*জার ও ওয়ারী—তিন জায়গা*তেই আইইডিসি*আরের পক্ষ থেকে স্থানীয় মানুষ*দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ও*য়ারীতে ৪৯ জনকে প্রশি*ক্ষণ দেওয়া হয়। এবার ওয়ারীর লকডাউনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লি*উএইচও) বিশেষ*জ্ঞরাও যুক্ত ছিলেন।

রা*জধানীর তিন জা*য়গায় সাফল্যে*র মধ্যে দেশেও করোনা সংক্র*মণ কমছে। কিন্তু ঈদুল আ*জহা সামনে রেখে দেশের বি*ভিন্ন জায়গায় পশুর হাট ব*সছে। সেখানে অনেক ক্ষে*ত্রেই যেসব নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়ে*ছে, সেগুলোর ধা*র ধারছে না কেউ। আবার এর মধ্যে ঈ*দে অনেক মা*নুষ বাড়ি যাবে এবং পরে ঢাকায় ফিরবে। এর ফলে ঢা*কায় ঈদের পর বড় সংক্রমণে*র আশঙ্কা করছেন আইইডি*সিআরের উপ*দেষ্টা মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, ঈদের পর সং*ক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে রাজ*ধানীতে। তখন এলা*কাভিত্তিক লকডা*উনের কোনো বিক*ল্প নেই। আর সেখানে সবচেয়ে বে*শি জরুরি স্থানীয় মা*নুষকে এ কাজে সম্পৃক্ত করা।’

তা*হলে ঈদের পর কি নতুন করে লকডা*উন হবে?

মীর*জাদী সেব্রিনা বললেন, কোথাও ল*কডাউন করা শুধু আইইডি*সিআর বা স্বাস্থ্য অধি*দপ্তরের সিদ্ধান্তের বিষয় না। এখানে নানা*মুখী প্রচেষ্টার দর*কার। একাধিক মন্ত্রণালয় নিয়ো*জিত থাকে। এটা সবার সঙ্গে সম*ন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে জনস*ম্পৃক্ততা এখন জরুরি।

অধ্যা*পক সেব্রিনার সঙ্গে একমত *জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশে*ষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল। তিনি সর*কার নিয়োজি*ত কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জন*স্বাস্থ্য বিশে*ষজ্ঞ উপদেষ্টা দলের (সিলেট বিভাগ) সদস্য। আবু জামি*ল ফয়সাল বলেন, ঈদের পরের সম্ভা*ব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্য*বস্থা এখন*ই নিতে হবে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রা*মাঞ্চলে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় মানু*ষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার নজি*র আছে।

গ্রামে*র মতো ছোট জনসং*খ্যার এলাকায় যেটা স*ম্ভব, সেটা কি রাজ*ধানীতেও কার্য*কর হবে?

অধ্যা*পক ফয়সাল বলেন, ‘খুবই সম্ভব। তি*নটি অঞ্চল আমা*দের সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এসব এলা*কায় যেভাবে স্বেচ্ছাসে*বক নেওয়া হয়েছে, তাতে পুরো*পুরি জনগো*ষ্ঠীকে একাত্ম করা হয়নি। ক*রোনা সংক্রমণ রোধে রাজধা*নীতে মানুষের অংশ*গ্রহণ আরও বাড়াতে হবে। এটা অপির*হার্য।’

Facebook Comments

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button