পরিবেশ ও জীববৈচিত্রফরিদপুরবাংলাদেশ
Trending

ফরিদপুরে পানি*বন্দী দেড় লাখের বেশি মা*নুষ

‘হঠাৎ ক*ইর‍্যা বানের পানিতে নদীর পাড় ভা*ইঙ্গ্যা ঘরবাড়ি তলায় গেছে। ঘরের মাল-ছামা*নাও কিছু বাইর করতি পারি নাই। পাঁচ*জন ছাওয়াল-মাই*য়ার সাথে গরু-বাছুর নিয়্যা রা*স্তার ওপর আইসা উঠছি।’ কথাগুলো বল*ছিলেন ফরিদপু*রের বর্ধিত পৌরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের অ*ধীনে হরিসভা এলাকার বাসিন্দা নুরজা*হান বেগম (৬৩)।

১৬ জু*লাই শহরের ভূঁইয়াবাড়ী ঘাট এলা*কায় পদ্মা নদীর তীর ভেঙে পানি ঢুকতে শু*রু করে ফরিদপুর পৌর এলা*কায়। ২৪ ঘণ্টার ম*ধ্যেই পানিতে নিমজ্জিত হয় অ*ন্তত দেড় হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি। লো*কজন চলে আসে সড়কে। কেউ কেউ চলে যান আ*ত্মীয়ের বাড়িতে।

ওই এলা*কার আরেক বাসিন্দা হাফিজা খা*তুন বলেন, ‘পরিবারের হগ*লতিরে নিয়্যা আইজ প্রায় এক স*প্তাহ রাস্তায় পইর‍্যা রই*ছি। আমাগের অবস্থা যে*মন–তেমন, গরু–ছাগলের খাবা*রও জুটাইতি পারতেছি না। অবলা প্রা*ণীর খিদের অভাবে চিৎকা*র পারে। সহ্য করা যা*য় না।’

শহরে*র টিবি হাসপা*তাল মোড় থেকে পূর্ব দিকে চলে গেছে গু*চ্ছ গ্রামের সড়ক। সেখানে শুধুই হত*দরিদ্র পরিবা*রের বাস। এই বন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাও*য়ায় এসব পরিবার এসে আশ্রয় নিয়ে*ছে উঁচু সড়কে। সেখানকার মা*নুষের দুর্ভোগ আরও বেশি।

সড়কে আ*শ্রয় নেওয়া গৃহিণী আছি*য়া বেগম বলেন, ‘গত পাঁ*চ দিন হইলো এহেনে (রাস্তা*য়) উঠছি। একবার চিড়্যা আর মুড়ি দি*ছিলো। তারপ*র আর কেউর দেখা নাই। এহন কী কইর‍্যা দি*ন চলবি আমাগের।’

১৬ জুলা*ই থেকে বৃহস্প*তিবার পর্যন্ত ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ এলা*কার পানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বি*পাকে রয়েছে ফরি*দপুর পৌরসভার ভাজ*নডাঙ্গা, টিবি হাসপাতা*লের মোড়, সদরের আলীয়াবাদ ইউনি*য়নের সাদীপুর ও গদাধরডাঙ্গী এলাকার লোক*জন।

বন্যার পা*নিতে বাড়িঘর নিমজ্জিত হওয়া*য় তারা বর্তমানে চরভদ্রাসন-ফরি*দপুর সড়কের দুই পাশসহ বিভিন্ন বেড়ি*বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।বৃহস্পতিবার স*কাল ৬টার দিকে গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপৎ*সীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহি*ত হচ্ছিল। ১৬ জু*লাই ওই পয়েন্টে ৯৯ সেন্টিমি*টার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এ পয়ে*ন্টে সর্বোচ্চ পানি রেকর্ড করা হয়েছে ২০ জুলা*ই ১০৬ সেন্টিমিটার। ১৩ জুলাই থেকে বৃহস্পতি*বার পর্যন্ত পানি বিপৎ*সীমার ১০০ সেন্টি*মিটার ওপরেই আছে। পানির সামা*ন্য হ্রাস–বৃদ্ধিতে বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হ*চ্ছে না। ‘এটি একটি শঙ্কার বিষয়’ মন্ত*ব্য করে পানি উ*ন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌ*শলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘সমুদ্রের পানি ফুলে থা*কায় পানি স্বাভাবিক গতি*তে নামতে পার*ছে না। ফলে পানি একরকম দাঁ*ড়িয়ে আছে। এটি আমাদের জন্য একটা শঙ্কা*র বিষয়। ভবিষ্যতে এ কারণে ক্ষ*তির মাত্রা আরও বেশি হতে পা*রে।’

জেলা প্রশাসনে*র তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৪টি উপ*জেলার ১৬টি ইউনিয়*নের ৩৪৮ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রা*য় দেড় লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

ফরিদ*পুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বন্যা*র্তদের পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে উল্লে*খ করে বলেন, বান*ভাসি মানুষদের জন্য বৃহস্পতি*বার পর্যন্ত ৫৫০ মেট্রিক টক চাল, ৭ হাজা*র প্যাকেট শুকনা খাবার ও নগদ ৭ লাখ টাকা ব*রাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব সা*মগ্রী সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বা*হী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) জনপ্রতি*নিধিদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। ত্রা*ণের পর্যাপ্ত মজুত র*য়েছে। প্রয়োজনে ব*রাদ্দ আরও বাড়ানো হবে।

বৃহস্প*তিবার জেলা পুলিশের উ*দ্যোগে বন্যাদুর্গতদের ম*ধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আলি*য়াবাদ এলাকায় খাবার বিত*রণ করেছে নন্দিতা সু*রক্ষা নামে নারীদের একটি সামা*জিক প্রতিষ্ঠান। দুপুরে শহরের ২৫ ন*ম্বর ওয়ার্ডের হরিস*ভার বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেওয়া বন্যা*র্তদের খাদ্য*সহায়তা দিয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেব*ক লীগ। এ ছাড়া যুবদলের কে*ন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ফরি*দপুর বিভাগীয় সহ*সভাপতি মাহবু*বুল হাসান আলিয়াবাদ ইউনিয়*নের সাদিপুর এলাকায় বন্যা*র্তদের মধ্যে ত্রাণসা*মগ্রী বিতরণ করে*ন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button