fbpx
ধর্মস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

‘করোনা মানেই মৃত্যু নয়, বাঁচতে হলে জানতে হয় : মিজানুর রহমান আজহারি’

ইস’লামি বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারি বলেছেন, ‘ক’রোনা মানেই মৃত্যু নয় বাঁ’চতে হলে জানতে হয়।’

গত ৬ মার্চ নিজের ফেস’বুকের ভেরি’ফায়েড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাস শেয়ার দেন মি’জানুর রহমান আজহারি।

লেখাটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো :

“দেশি-বিদেশি মিডিয়া হাউজ’গুলোকে গত মাস দেড়েক ধরে খুব সুক্ষ্ম’ভাবে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি। দেশীয় মিডিয়া হাউ’জের কথা অবশ্য ধর্তব্যের বাইরে, কারণ এদের নিউজ’গুলোর মাঝে কোন সৃজন’শীলতা নেই। নেই নিজস্ব রিসার্চ, ডাটা। এরা যেখানে যা পায় তা-ই অনুবাদ করে ছেড়ে দেয়। তাই, গ্লোবাল সিরিয়াস ইস্যুতে সচে’তন ব্যক্তিমাত্রই বিদেশি মিডিয়া হাউজ’গুলোর ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন, এটাই স্বাভাবিক।

 

কিন্তু, ‘করোনা’ ইস্যুতে এই বিদেশি মিডিয়া, বিশেষ করে আমে’রিকান মিডিয়া’গুলোকে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগছে আমার কাছে। তারা সারাদিন ‘করোনা’ কে তাদের লিড নিউজ হিশেবে দেখাচ্ছে, খবরের পাতা থেকে জিনিসটা সরাচ্ছেই না একদম। বিশ্বের কোন প্রান্ত থেকে যদি করোনাতে কোন একটা মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়, সাথে সাথে সেটা তুলে দিচ্ছে লিড নিউজে৷

 

মিডিয়া’গুলো ক’রোনায় মৃতের সংখ্যা হাইলাইট করছে বলে আমি বিরোধিতা করছিনা। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, ক’রোনায় আক্রান্ত হাজার হাজার লোক প্রতিদিন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরছে, এই নিউজটা লিড নিউজ হিশেবে দেখাচ্ছেনা আমে’রিকান মিডিয়া’গুলো, বিশেষ করে সি এন এন, ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু’হার ২% এর কাছাকাছি। এই ২% এর পাশে আমি ইচ্ছে করলে ‘মাত্র’ শব্দ যোগ করতে পারতাম, কিন্তু করিনি। আমার কাছে একটা প্রাণের মূল্যও অনেক। কিন্তু ব্যাপার হলো, এই যে হাজার হাজার মা’নুষ করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরছে, এটা কেনো মানুষকে জানানো হ’চ্ছেনা?

 

আরেক’টা ইন্টারেস্টিং ডাটা শেয়ার করি। করোনা নিয়ে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হইচই করছে আমে’রিকান মিডিয়া হাউজগুলোই। মুহুর্তে মুহুর্মুহু সংবাদ ছাপাচ্ছে তারা করোনা নিয়ে৷ এতে ক’রে সারা পৃথিবীতে একটা প্যানিক ছড়িয়ে পড়েছে ভালোভাবে যে, করোনা ধরলে আর বুঝি রক্ষে নেই৷ অথচ, করোনায় মৃতের সংখ্যার পাশা’পাশি আমাদের যদি সুস্থ হয়ে উঠার ডাটাও মি’ডিয়া জানাতো, তাহলে বোধকরি মানুষ এভাবে প্যানিক’ড হয়ে পড়তো না। মানুষ এখন ভাবছে, করোনা মানেই মৃত্যু।

 

কিন্তু, এই ফি বছর, খোদ আমেরিকা’তেই নর্মাল ফ্লু’তে মারা গেছে বিশ হাজারের মতো মানুষ৷ একেবারে টাটকা খবর কিন্তু। ন’র্মাল ফ্লু মানে বুঝেছেন তো? এই যে জ্বর, সর্দি-কাশি ইত্যাদিতে। দেখুন, এই নর্মাল ফ্লুয়ের জন্য দুনি’য়ায় হাজার রকমের প্রতি’ষেধক মজুদ আছে। আছে বাহারি রকমের চিকিৎসা৷ এতোকিছু থাকা সত্ত্বেও, আমেরিকার মতোন দেশে এই ফ্লুতেই মারা গেছে বিশ হাজারেরও অধিক মানুষ। পুরো বিশ্বের হিশেব যে কি, তা তো বলার বাইরে। অথচ, যে করোনা’কে নিয়ে এতো হইচই মিডিয়া করছে, সেই ক’রোনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২ হাজারের মতো। এই করোনার কিন্তু কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। কোন প্রতিষেধক না থেকেও এতে মারা গেছে ২ হাজার, আর হাজার রকমের প্রতি’ষেধক মজুদ থাকার পরেও নর্মাল ফ্লুতে আমেরিকায় নাই হয়ে গেছে বিশ হাজার। তাহলে, কোনটাকে বেশি ডেঞ্জারাস মনে হচ্ছে ডাটানু’সারে? কিন্তু দেখুন, আমে’রিকার মিডিয়া এটা নিয়ে কোন বাতচিত করছেনা। তারা সারা’দিন ওই এক করোনা নিয়েই আছে। এখানে কি তাহলে কোন ‘গেম’ চলছে? আমি জানি না।

 

‘করোনা আর মৃত্যু’ শব্দ দু’টো শুনতে শু’নতে আপনি নিশ্চয় ভয়ে কুঁকড়ে আছেন, না? তাহলে আপনাকে কয়েকটা আশার কথা শুনাই৷ হয়তো আপ’নার ভয়টা চলে যাবে। স্বাভাবিক জীবন’যাপন করতে পারবেন।

  • এখন পর্যন্ত করো’নাতে কোন শিশুর মৃত্যু সংবাদ পাওয়া যায়নি। শিশু মানে, ক’রোনায় আক্রান্ত হয়ে ০-৯ বছরের কোন শিশুর মৃ’ত্যুর ঘটনা দুনিয়ার কোথাও ঘটেনি। তাই, আপনার বাচ্চার ব্যাপারে বেশি ভয় পাওয়ার দরকার নেই। তবে, সতর্ক থাকতে হবে অবশ্যই।
  • ১০-১৯ বছরের এক’জনের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গেছে এখন পর্যন্ত, তবে অ’নেকের মতে, সেটাও রহস্য’জনক। আদৌ করোনায় কিনা, তা পুরোপুরি’ভাবে নিশ্চিত না।
  • করোনা আক্রান্ত ৭০,০০০ মানুষের ওপরে একটা স্ট্যাডি হয়েছে, যে’খানে দেখা গেছে ৮১% মানুষের সর্দি-কাশি হচ্ছে করোনার ফলে, আবার সেরেও যাচ্ছে। সুতরাং, বিশ্বাস রাখুন, আপনার-আমার যদি করোনা হয়েও থাকে, সাধারণ জ্বর-সর্দির মতো তা আবার সেরেও যাবে, ইনশা আল্লাহ৷ আশা নি’য়ে বাঁচুন, ভালো থাক’বেন।
  • ডাটা অনুসারে, করোনায় যারা মারা গিয়েছে, তা’দের ৫০ ভাগের বয়স ৭০ বছরের উর্ধ্বে। আর ৩০% এর বয়স ৬০-৬৯ এর মধ্যে। মানে, ৮০% লোক যারা মা’রা গেলো বা যাচ্ছে, তাদের গড় বয়স ৬০-৭০ এর উর্ধ্বে। আরো স্পষ্টভাবে, এই ক’রোনায় বু’ড়োরাই মারা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

 

না, ভয় পাওয়ার কারণ নেই। বুড়ো হলেই যে করোনায় ধপাস করে মারা পড়ছে, তা কিন্তু নয়। রিসার্চে দেখা গেছে, বুড়ো’দের মধ্যে ক’রোনায় যারা মারা যাচ্ছে, তারা প্রায় সবাই আগে থেকেই কোন না কোন রোগে আক্রান্ত, যেমন- ডায়াবেটিস, হার্টের রো’গ, অ্যাজমা, লিভার ই’ত্যাদি।

 

সব ডাটা’কে একত্র করলে যা সারমর্ম দাঁড়ায় তা হলো, সুস্থ এবং রোগ প্রতি’রোধ ক্ষমতা যাদের বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ক’রোনায় মারা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তাই, আশা’হত হবেন না। মনে জোর রাখুন।

 

গত দু’দিন ধরে আমার নিজেরও হালকা হালকা গা গরম। মাঝে মাঝে ম’নে হলো, আমাকে বুঝি ক’রোনাই পেয়ে গেলো। তো, আমি যদি এই ফ্যাক্টর’গুলো সম্পর্কে না জানতাম, আমি কি ভাবতাম জানেন? আমি ভাবতাম, আমার যদি সত্যিই সত্যিই করোনা ধরা পড়ে, তা’হলে সেদিন আমি আর বাসায় ফিরবো না। আমার মাধ্যমে আমার মা, স্ত্রী, সন্তা’ন আক্রান্ত হবে, আমি এটা ভাবতেই পারিনা। তো, কি করবো তাহলে? কক্স’বাজারের দিকে চলে যাবো, কিংবা কোন নির্জন পাহাড়ি অঞ্চলে। বাসায় কোনো’ভাবে ব্যাংকের কার্ডটা পাঠিয়ে বলবো, ‘বেঁচে থাকলে দেখা হবে’।

 

তো, বাঁচলে তো ফিরবো। যদি না বাঁচি। সম্ভ’বত আমার লাশটাও খুঁজে পাবেনা আমার পরিবার৷ এই ভাবনা’গুলো কোত্থেকে আসতো জানেন? প্যানিক থেকে। প্যা’নিক এতো ভয়ানক জিনিস। তাই, ভাইয়েরা, প্যানিক হবেন না। স্বা’ভাবিক জীবন’যাপন করুন, কিন্তু অতি অব’শ্যই সতর্কতার সাথে৷

 

এই যে বি’শাল একটা লেখা পড়লেন, এই লেখার সার’মর্ম কি? আমি কি করোনা নিয়ে হাসি তামাশা করছি? পাত্তা না দিতে বলছি?

 

না, মোটেও তা নয়। করোনা’কে অবশ্যই পাত্তা দিতে হবে। সতর্ক হতে হবে৷ বাই’রে বেরুলে মাস্ক পড়তে হবে, বারেবারে হাত ধুতে হবে, লোকারণ্য এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। সবই করতে হবে, কিন্তু প্যানিক হওয়া যাবেনা। প্যানিক হলে স্বাভাবিক জীবন’যাপন বিপর্যস্ত হবে ভীষণভাবে। তখন করোনায় আপনার মৃত্যুর সম্ভা’বনা না থাকলেও, প্যানিক থেকে তৈরি ডিপ্রে’শানে আপনার মৃত্যুর সম্ভাবনা কিন্তু হুড়মুড় করে বেড়ে যাবে।

চলুন, সকাল-সন্ধ্যার যি’কিরগুলো নিয়’মিত করি। বেশি বেশি ইস্তি’গফার করি। ভয় না পেয়ে আল্লাহ’র ওপর তাওয়াক্কুল করি।

Facebook Comments

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button